গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার একটি এজেন্ট ব্যাংকিং শাখায় সঞ্চয়ী হিসাব ও এফডিআর (ফিক্সড ডিপোজিট) গ্রাহকদের প্রায় দুই কোটি টাকার হিসাব না মেলায় চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় পড়েছেন আমানতকারীরা। ঘটনাটি উপজেলার ধাপেরহাটে অবস্থিত ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির একটি এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেটে ঘটেছে।
রোববার (২৬ জুলাই) বিকেল থেকে রাত ১টা পর্যন্ত শতাধিক গ্রাহক ওই শাখায় ভিড় করেন। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে ধাপেরহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে নিয়ে যায়।
পুলিশ, গ্রাহক, এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেটের স্বত্বাধিকারী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি রেশমা বেগম নামে এক গ্রাহক তার পাঁচ বছর মেয়াদি ৫ লাখ টাকার এফডিআর ভাঙাতে গেলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাকে জানান, তার নামে কোনো জমা নেই। পরে তাকে রোববার আসতে বলা হয়।
এ খবর ছড়িয়ে পড়লে আরও অনেক গ্রাহক নিজেদের হিসাব যাচাই করতে এসে জানতে পারেন, তাদের নামে কোনো এফডিআর নেই অথবা সঞ্চয়ী হিসাবে জমাকৃত টাকার সঙ্গে বড় ধরনের গরমিল রয়েছে। গ্রাহকরা এ সময় জমার রসিদ ও এফডিআর সনদ দেখালে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ সেগুলোকে ভুয়া বলে দাবি করে।
ভুক্তভোগী রেশমা বেগম বলেন, প্রায় তিন বছর আগে তিনি ৫ লাখ টাকা ফিক্সড ডিপোজিট করেছিলেন। কিন্তু টাকা তুলতে এসে জানতে পারেন তার নামে কোনো হিসাবই নেই।
আরেক গ্রাহক হেলাল মন্ডল জানান, তিনিও প্রায় তিন বছর আগে ৪ লাখ টাকার এফডিআর করেছিলেন। কিন্তু ব্যাংকে এসে জানতে পারেন, তার নামে কোনো এফডিআর খোলা হয়নি।
লাজু মন্ডল নামে এক সঞ্চয়ী হিসাবধারী জানান, তার হিসাবে ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা জমা ছিল। এর মধ্যে এক লাখ টাকা তোলার পর সম্প্রতি হিসাব যাচাই করে দেখেন, অবশিষ্ট থাকার কথা থাকলেও হিসাবে মাত্র এক হাজার টাকা রয়েছে।
এজেন্ট ব্যাংকিং শাখার স্বত্বাধিকারী মো. ওয়ালিউর রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, শাখার ক্যাশিয়ার মো. সবুজ মিয়া ও অফিস সহায়ক মো. মাহবুল ইসলাম যৌথভাবে ৪৬ জন গ্রাহকের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। এতে দুই কোটিরও বেশি টাকা আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তিনি জানান, আগামী এক মাসের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের অর্থ ফেরত দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ধাপেরহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক মতিউল ইসলাম জানান, ব্যাংক কর্তৃপক্ষ এক মাসের মধ্যে গ্রাহকদের অর্থ ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। এই শর্তে আপাতত গ্রাহক ও ব্যাংক কর্তৃপক্ষের মধ্যে বিষয়টির প্রাথমিক সমাধান হয়েছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
এজেন্ট ব্যাংকিং শাখাটি নিয়ন্ত্রণকারী ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির পীরগঞ্জ (রংপুর) শাখার ব্যবস্থাপক মো. হাদিউল ইসলাম বলেন, ক্যাশিয়ার মো. সবুজ মিয়া অফিস সহায়ক মাহবুল ইসলামের সহযোগিতায় গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে ভুয়া জমার স্লিপ ও স্ক্যান করা এফডিআর সনদ দিয়েছেন। তিনি আরও জানান, গ্রাহকদের সরলতার সুযোগ নিয়ে সঞ্চয়ী হিসাবেও অনিয়ম করা হয়েছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের আমানতের অর্থ ফেরত দিতে ব্যাংক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।

