লক্ষিন্দর ইউনিয়নের প্রশিকা বনায়ন প্রকল্পের গাছ কাটার একটি দরপত্র নিয়েও ইউএনও মো. মাহমুদুল হাসানের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের দাবি, দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি চলমান কাজ বন্ধ করে দেন। পরে অর্থের বিনিময়ে সেই কাজের অনুমতি দেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সাবেক ইউএনও মো. আবু সাঈদের সময় প্রশিকা মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্রের আহ্বান করা দরপত্রে পাঁচটি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ২৯ লাখ ২৬ হাজার ৪০২ টাকার কার্যাদেশ পান। কাজের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ সম্পন্ন হওয়ার পর নতুন ইউএনও মো. মাহমুদুল হাসান দায়িত্ব নেন। পরে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে গাছের মাপজোক (মেজারমেন্ট) ও মূল্য নির্ধারণে অসঙ্গতির অভিযোগ তুলে কাজ বন্ধ করে দেন। কেটে রাখা গাছ স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের জিম্মায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।
ঠিকাদারদের অভিযোগ, পরে তাঁরা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে ইউএনও কার্যালয়ে গিয়ে দরপত্রের বৈধতার বিষয়টি তুলে ধরেন। ইউএনও বিষয়টি যাচাইয়ের আশ্বাস দিলেও দীর্ঘদিন কোনো সিদ্ধান্ত দেননি। তাঁদের দাবি, একপর্যায়ে কাজ পুনরায় চালুর অনুমতি দিতে প্রথমে ১০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। পরে দর-কষাকষির মাধ্যমে ৩ লাখ টাকায় সমঝোতার পর কাজের অনুমতি দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে প্রশিকা মানবিক উন্নয়ন কেন্দ্র, ঘাটাইলের ব্যবস্থাপক সেফায়েত উল্লাহ বলেন, “আমরা বিধি অনুযায়ী দরপত্র আহ্বান করি। সর্বোচ্চ দরদাতাদের কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছিল। পরে নতুন ইউএনও এসে মেজারমেন্ট ও মূল্য নির্ধারণে আপত্তি জানিয়ে কাজ বন্ধ করে দেন।”
এ বিষয়ে জানতে ইউএনও মো. মাহমুদুল হাসানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হয়। কাজ বন্ধ করার পর কী কারণে পরে একই প্রকল্পে কাজের অনুমতি দেওয়া হলো এবং ঠিকাদারদের অর্থ দাবির অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি ফোন কেটে দেন। পরে খুদে বার্তা পাঠিয়েও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

