মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার জিয়নপুর ইউনিয়নের খোর্দ্দমহেশপুর এলাকায় মাসুদ মোল্লার সারের দোকানে চুরির অভিযোগ উঠেছে। দোকান মালিকের দাবি, দোকান থেকে সার, কীটনাশক ও নগদ টাকাসহ প্রায় ৯ লাখ টাকার মালামাল খোয়া গেছে।
দোকান মালিক মাসুদ মোল্লা জানান, গত ৩ অক্টোবর রাতে কোনো একসময় দোকানে চুরির ঘটনা ঘটে। পরদিন ৪ অক্টোবর সকালে দোকানে এসে তিনি দেখতে পান, দোকানের ভেতরের মালামাল এলোমেলো অবস্থায় পড়ে আছে এবং ক্যাশের তালা ভাঙা। পরে হিসাব করে সার, কীটনাশক ও নগদ টাকাসহ প্রায় ৯ লাখ টাকার মালামাল খোয়া যাওয়ার বিষয়টি জানতে পারেন বলে দাবি করেন তিনি।
মাসুদ মোল্লার অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে সেতাফসহ কয়েকজনের সঙ্গে তাদের বিরোধ চলছে। ওই বিরোধের জের ধরে চুরির ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে তিনি সন্দেহ করছেন। তবে চুরির ঘটনায় কারা জড়িত, সে বিষয়ে তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন প্রয়োজন।
মাসুদ মোল্লা আরও জানান, বিরোধপূর্ণ জমিটি দীর্ঘদিন ধরে তাদের দখলে রয়েছে এবং জমির দলিলপত্রও তাদের কাছে রয়েছে। ওই জমির রেকর্ড ও মালিকানা নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে, জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ভয়ভীতি ও হুমকির অভিযোগে ১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে দৌলতপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন মাসুদ মোল্লা। অভিযোগপত্রে কয়েকজনের বিরুদ্ধে জমি দখলের চেষ্টা, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, সারের দোকানে চুরির ঘটনায়ও মামলা চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন দোকান মালিক। চুরির ঘটনা এবং জমি-সংক্রান্ত বিরোধ—দুই বিষয়ই বর্তমানে আইনগত প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে।
স্থানীয় মুদিদোকানি সিরাজুল ইসলাম জানান জানান, তিনি চুরির ঘটনা নিজ চোখে দেখেননি। সকালে দোকানে এসে বিষয়টি জানতে পারেন। তিনি আরও জানান, তিনিও মাসুদ মোল্লার কাছ থেকে দোকান ভাড়া নিয়ে ব্যবসা করছেন। এর আগে সেতাফ তাকে দোকান ছেড়ে দিতে বলেছিলেন বলেও জানান তিনি। তবে তিনি সেতাফের কথায় দোকান ছাড়েননি।
দোকান মালিকের দাবি, চুরি যাওয়া সার, কীটনাশক ও নগদ টাকাসহ মোট ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৯ লাখ টাকা।
এ বিষয়ে সেতাফের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
চুরির ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মামলাটি চলমান থাকায় তদন্তের মাধ্যমে চুরির প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন দোকান মালিক।





