জনপ্রিয় ট্রাভেল ভ্লগার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর আবু মোহাম্মদ সালাহউদ্দীন, যিনি সালাহউদ্দীন সুমন নামে পরিচিত, ‘বর্ষসেরা ট্যুরিজম কনটেন্ট ক্রিয়েটর’ হিসেবে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের পুরস্কার পেয়েছেন।
৩ অক্টোবর বিকেলে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাঁর হাতে এ পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। বিশ্ব পর্যটন দিবস ২০২৬ উপলক্ষে দেশের পর্যটনশিল্পে অবদান রাখার স্বীকৃতি হিসেবে মোট ১৬টি ক্যাটাগরিতে বর্ষসেরা ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও উদ্যোগকে এ সম্মাননা দেওয়া হয়।
অ্যান্টার্কটিকা, আমাজন ও আর্কটিকসহ বিশ্বের দুর্গম বিভিন্ন গন্তব্যে ভিডিও ধারণের পাশাপাশি সালাহউদ্দীন সুমন বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহাসিক স্থাপনা, অপরিচিত ভূপ্রকৃতি এবং গ্রামবাংলার জীবন-জীবিকা তুলে ধরে দেশ-বিদেশে প্রশংসিত হয়েছেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, এমপি। তিনি পর্যটন খাতে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, পিপিপি মডেল বা লিজিংয়ের মাধ্যমে পর্যটন খাতের উন্নয়নে সরকার সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।
বিশেষ অতিথি ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী, এমপি। তিনি বলেন, পর্যটন খাতের উন্নয়নে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি খাত ও তরুণ উদ্যোক্তাদের সমন্বিত অংশগ্রহণ প্রয়োজন।
স্বাগত বক্তব্যে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ব্যারিস্টার মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী বলেন, বাংলাদেশের পর্যটন খাতকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে এবং দেশীয় সংস্কৃতি ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতে বোর্ড কাজ করছে। ‘বাংলাদেশ পর্যটন পুরস্কার ২০২৬’-এর মাধ্যমে এ খাতের উদ্যোক্তা, উদ্ভাবক ও কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের স্বীকৃতি দিয়ে উৎসাহিত করাই মূল লক্ষ্য।
অনুষ্ঠানে ভিডিও বার্তায় শুভেচ্ছা জানান ইউএন ট্যুরিজমের মহাসচিব শাইখা নাসের আল নোয়াইস এবং প্যাসিফিক এশিয়া ট্রাভেল অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নূর আহমেদ হামিদ। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামান, ট্যুরিস্ট পুলিশের প্রধানসহ পর্যটন খাতসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহমিদা আক্তার।
পুরস্কার পাওয়ার পর সালাহউদ্দীন সুমন বলেন, দেশের পর্যটন খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের কাছ থেকে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে এই স্বীকৃতি পাওয়া একজন কনটেন্ট ক্রিয়েটরের জন্য আনন্দ ও গর্বের।
তিনি বলেন, সেন্ট মার্টিন, কক্সবাজার ও সাজেক ভ্যালির মতো জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রের পাশাপাশি বাংলাদেশের গ্রামবাংলায় পর্যটনের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে গ্রামবাংলার ঋতুবৈচিত্র্য ও রূপসৌন্দর্য বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।
বিশ্ব পর্যটন দিবস ২০২৬ উপলক্ষে টেকসই উন্নয়ন, সেবার মানোন্নয়ন, উদ্ভাবন, ডিজিটাল রূপান্তর, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ এবং পরিবেশ ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এ পুরস্কার দেওয়া হয়। সরকারি-বেসরকারি অংশীজনের সমন্বয়ে গঠিত জুরিবোর্ডের যাচাই-বাছাই শেষে ১৬টি ক্যাটাগরিতে এ সম্মাননা দেওয়া হয়।
সালাহউদ্দীন সুমন ছাড়াও বর্ষসেরা টেকসই পর্যটন উদ্যোগ হিসেবে শাকাওয়াথ’স সিক্স কন্ট্রোল পয়েন্ট ফর ফুড কস্ট, বর্ষসেরা পাঁচ তারকা হোটেল হিসেবে ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকা এবং পর্যটনবিষয়ক সাংবাদিকতায় নাঈম উল ইসলাম পুরস্কার পেয়েছেন।









