রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে বঙ্গভবনের দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে। সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ দেশে ফেরার পর রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়ে পরবর্তী আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
জানা গেছে, স্পিকার দেশে ফেরার পর ঠিক কখন এবং কীভাবে তার কাছে রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরিত পদত্যাগপত্র হস্তান্তর করা হবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ কার্যকর করতে হলে তাকে জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে স্বাক্ষরিত পদত্যাগপত্র জমা দিতে হয়।
সংবিধানের বিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। একই সঙ্গে, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদকে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের দাবি বিভিন্ন মহলে জোরালো হয়ে ওঠে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির প্রারম্ভিক ভাষণের সময় বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরাও তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান।
মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। নিয়ম অনুযায়ী, তার পাঁচ বছরের মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিলে শেষ হওয়ার কথা ছিল।
তার দায়িত্বকাল দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম ঘটনাবহুল সময় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এ সময় ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান, আওয়ামী লীগ সরকারের পতন, অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব গ্রহণ এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। পাশাপাশি, দেশের ইতিহাসে একমাত্র রাষ্ট্রপতি হিসেবে স্বল্প সময়ের ব্যবধানে তিনজন ভিন্ন সরকারপ্রধানকে শপথ পড়ানোর নজিরও গড়েন তিনি।

