মানিকগঞ্জে দীর্ঘদিন ধরে বেদখলে থাকা নিজের জমি আদালতের নির্দেশে ফিরে পেয়েছেন মাহেলা আক্তার নামে এক নারী। বৃহস্পতিবার দুপুরে মানিকগঞ্জ পৌরসভার জয়রা এলাকায় আদালতের আদেশ বাস্তবায়নের মাধ্যমে জমিটি উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
জানা গেছে, বাংলাদেশের ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন অনুযায়ী আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন করেন মানিকগঞ্জ সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রিক্তা খাতুন। এর আগে সার্ভেয়ার রুবেল হোসেন জমিটি পরিমাপ করেন।
মাহেলা আক্তার জানান, প্রায় নয় বছর আগে তার স্বামী দলিলের মাধ্যমে জমিটি তার নামে লিখে দেন। ওই জমিতে একটি আধাপাকা ঘর ছিল এবং তিনি সেখানে বসবাস করতেন। তবে তার স্বামীর আগের পক্ষের স্ত্রী ও সন্তানরা জমিটি দখল করে নিয়ে তাকে সেখান থেকে চলে যেতে বাধ্য করেন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ হলেও কোনো সমাধান হয়নি। পরে তিনি আদালতের শরণাপন্ন হন। আদালতের নির্দেশের পর সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও সার্ভেয়ার ঘটনাস্থলে গিয়ে জমি পরিমাপ করে উদ্ধার করেন এবং তার কাছে দখল বুঝিয়ে দেন। এ সময় এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, নতুন এই আইনের আওতায় জমি দখল, জাল দলিল তৈরি বা অবৈধভাবে দখলে রাখাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে । এর ফলে দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রকৃত মালিককে তার অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন যাবৎ পরিবারটির মধ্যে জমির দিক নিয়ে সমস্যা চলছিল। বার বার এলাকার লোকজন নিয়ে বসলেও সমাধান হয়নি। জোতের মালিক আব্দুল আলীম তার দুই স্ত্রী কে অংশ হিসেবে জমি লিখে দেন। প্রথম স্ত্রী কে ১০ শতাংশ ও দ্বীতীয় স্ত্রীকে ১০ শতাংশ। উভয় স্ত্রী আধাপাকা ঘরের একজন পশ্চিম দিকে ও ছোট স্ত্রী মাহেলা পূর্বদিকে। কিন্তু পরিবারের মধ্যে ঝামেলা বাদলে প্রায় নয় বছর আগে মাহেলা আক্তার কে তার বসতভিটা থেকে আগের ঘরের স্ত্রী সন্তানেরা নির্যাতন করে বাড়ি থেকে বের করে দেন ও বেদখল করে। পরে মাহেলা আক্তার তার দুই সন্তানকে নিয়ে ভাড়া বাসায় বসবাস করেন।
ভূমির তফসিল দেখে জানা যায় আব্দুল আলীম তার প্রথম স্ত্রীকে ১০ শতাংশ জমি লিখে দিলেও সেখানে কোন দিক উল্লেখ নাই। দ্বীতীয় স্ত্রী মাহেলা আক্তার কে পূর্বাংশ উল্লেখ করে লিখে দেন।
মানিকগঞ্জ সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রিক্তা খাতুন বলেন, জমির মালিকানা নিয়ে কোনো বিরোধ ছিল না; বিরোধ ছিল কেবল দখলকে কেন্দ্র করে। দীর্ঘদিনের ওই বিরোধের পর আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনের আওতায় জমি পরিমাপ করে উদ্ধার করা হয়েছে এবং প্রকৃত মালিক মাহেলা আক্তারের কাছে দখল হস্তান্তর করা হয়েছে।

