গবেষণায় ৩৪টির মধ্যে ২৬টি টুথপেস্টে মিলল মাইক্রোপ্লাস্টিক, ভোক্তা নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ

শহিদুল ইসলাম সুজনসম্পাদক ও প্রকাশক দৈনিক টেলিগ্রাম
🕙 প্রকাশিত : ২৮ জুলাই, ২০২৬ । ১১:৩৩ এএম

দেশে বাজারজাত বিভিন্ন টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি নিয়ে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (এসডিও) এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ এক গবেষণায় পরীক্ষিত ৩৪টি টুথপেস্টের মধ্যে ২৬টিতে অতি সূক্ষ্ম প্লাস্টিক কণা বা মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে। উদ্বেগজনক বিষয় হলো, শিশুদের জন্য তৈরি কিছু টুথপেস্টেও এসব কণার উপস্থিতি পাওয়া গেছে।

গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে, দেশে টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের গ্রহণযোগ্য মাত্রা নির্ধারণে কোনো জাতীয় মানদণ্ড নেই। পাশাপাশি এসব পণ্যের নিয়মিত বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা ও তদারকির কার্যকর ব্যবস্থাও গড়ে ওঠেনি। ফলে বিষয়টি শুধু একটি রাসায়নিক উপাদানের নয়, বরং বিদ্যমান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, টুথপেস্ট এমন একটি পণ্য যা মানুষ প্রতিদিন ব্যবহার করে। বিশেষ করে শিশুরা দাঁত ব্রাশ করার সময় অনেক ক্ষেত্রেই টুথপেস্টের কিছু অংশ গিলে ফেলে। তাই এ ধরনের পণ্যের উপাদান সম্পর্কে সুস্পষ্ট নীতিমালা, বাধ্যতামূলক উপাদান তালিকা এবং নিয়মিত মান পরীক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি।

গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, জরিপে অংশ নেওয়া অনেক ভোক্তাই জানতেন না যে মৌখিক পরিচর্যার পণ্যে প্লাস্টিকজাত উপাদান থাকতে পারে। এছাড়া পরীক্ষায় অন্তর্ভুক্ত কোনো টুথপেস্টের মোড়কেও মাইক্রোপ্লাস্টিক বা সংশ্লিষ্ট কৃত্রিম পলিমারের উপস্থিতি স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল না। ফলে সচেতনভাবে পণ্য নির্বাচন করার সুযোগও সীমিত হয়ে পড়ছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ব্যক্তিগত পরিচর্যার সামগ্রীতে মাইক্রোপ্লাস্টিকের ব্যবহার বিশ্বের অনেক দেশেই নিষিদ্ধ বা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত। তাই বৈজ্ঞানিক গবেষণার ফলাফলের ভিত্তিতে দেশের নীতিমালা হালনাগাদ করা এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া সময়ের দাবি।

তাদের মতে, ভোক্তা নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)-এর মাধ্যমে টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের গ্রহণযোগ্য মানদণ্ড নির্ধারণ, বাধ্যতামূলক উপাদান তালিকা প্রকাশ, নিয়মিত বাজার তদারকি, আধুনিক পরীক্ষাগারের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বৈজ্ঞানিক তথ্যের ভিত্তিতে নীতিমালা নিয়মিত হালনাগাদ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে উৎপাদক প্রতিষ্ঠানগুলোকেও নিরাপদ ও স্বচ্ছ উৎপাদন প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিভাগের আরও সংবাদ

spot_img

সর্বশেষ সংবাদ