ঢাকার পানিতে ‘চিরস্থায়ী রাসায়নিক’ পিএফএএস, জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশে বাড়ছে উদ্বেগ

শহিদুল ইসলাম সুজনসম্পাদক ও প্রকাশক দৈনিক টেলিগ্রাম
🕙 প্রকাশিত : ২৭ জুলাই, ২০২৬ । ৫:৩৪ এএম

ঢাকার নদী, লেক ও কলের পানিতে ‘চিরস্থায়ী রাসায়নিক’ হিসেবে পরিচিত পিএফএএস (PFAS)-এর উপস্থিতি নিয়ে নতুন গবেষণায় উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণায় পরীক্ষিত অধিকাংশ পানির নমুনায় এই রাসায়নিকের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে, যার অনেকগুলোর মাত্রা ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র ও নেদারল্যান্ডসের নির্ধারিত নিরাপদ সীমার চেয়ে বেশি।

এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও) এবং আন্তর্জাতিক দূষণকারী নির্মূল নেটওয়ার্ক (আইপিইএন)-এর যৌথ গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে।

গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, কয়েকটি নমুনায় বিশ্বব্যাপী নিষিদ্ধ পিএফওএ (PFOA), পিএফওএস (PFOS) এবং পিএফএইচএক্সএস (PFHxS)-এর মতো রাসায়নিকও শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া পরীক্ষিত পাঁচটি পোশাকের প্রতিটিতেই পিএফএএসের উপস্থিতি পাওয়া যায় এবং একটি জ্যাকেটে নিষিদ্ধ রাসায়নিকের অস্তিত্ব ধরা পড়ে। শিল্পাঞ্চল-সংলগ্ন জলপথে দূষণের মাত্রা তুলনামূলকভাবে বেশি বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পিএফএএস এমন একটি রাসায়নিক, যা পরিবেশে দীর্ঘ সময় ধরে থেকে যায় এবং সহজে ভেঙে যায় না। এটি মাটি, পানি ও মানবদেহে দীর্ঘস্থায়ীভাবে জমা হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে এ রাসায়নিকের সংস্পর্শে থাকলে উর্বরতা, ভ্রূণের স্বাভাবিক বিকাশ, থাইরয়েড হরমোনের কার্যকারিতা, রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা ও যকৃতের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। পাশাপাশি ক্যানসারের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হলেও পরিবেশবান্ধব উৎপাদন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন গবেষকরা। তাদের মতে, শিল্পায়নের সঙ্গে পরিবেশ সুরক্ষার ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি। শিল্পবর্জ্য যথাযথভাবে ব্যবস্থাপনা না করলে নদী ও পানির উৎস দূষিত হওয়ার ঝুঁকি আরও বাড়বে।

গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে, দেশে এখনো পিএফএএস নিয়ন্ত্রণে কোনো সুস্পষ্ট জাতীয় মানদণ্ড বা আইনি কাঠামো নেই। ফলে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের ভিত্তিতে দূষণের মাত্রা মূল্যায়ন করতে হয়েছে। যদিও বাংলাদেশ স্টকহোম কনভেনশনের সদস্য, তবুও পিএফএএস-সংক্রান্ত পৃথক নীতিমালা, শিল্পবর্জ্যের বাধ্যতামূলক পরীক্ষা, নদী ও কলের পানির নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ এবং নিরাপদ বিকল্প প্রযুক্তি ব্যবহারে শিল্পকারখানাকে বাধ্য করার সুপারিশ করা হয়েছে।

গবেষকদের মতে, নিরাপদ পানি নিশ্চিত করা কেবল সরকারের দায়িত্ব নয়; শিল্পপ্রতিষ্ঠান, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং নাগরিকদেরও সমানভাবে দায়িত্বশীল হতে হবে। কারণ পানিদূষণ একটি সামষ্টিক সমস্যা, যার প্রভাব শেষ পর্যন্ত পুরো সমাজের ওপরই পড়ে। তাই জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ সুরক্ষায় পিএফএএসের মতো ক্ষতিকর রাসায়নিকের ব্যবহার ও বিস্তার নিয়ন্ত্রণে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

এ বিভাগের আরও সংবাদ

spot_img

সর্বশেষ সংবাদ