শিরোনাম
Advertisement
সারাদেশ

বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমে স্থিতিশীল হলে দেশে সমন্বয়: জাহেদ উর রহমান

Advertisement
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমে স্থিতিশীল হলে দেশের বাজারেও দাম সমন্বয়ের কথা জানিয়েছে সরকার।

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমে স্থিতিশীল অবস্থায় এলে দেশের বাজারে তেলের দাম কমানোর বিষয়টি সরকার বিবেচনা করবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

জাহেদ উর রহমান বলেন, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বর্তমানে কিছুটা কমেছে। তবে এই দরপতন কতটা টেকসই, তা এখনই বলা কঠিন। কারণ ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি এখনও অস্থিতিশীল। বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমমূল্যে স্থিতিশীল হলে সরকার দেশের বাজারে দাম সমন্বয়ের বিষয়টি অবশ্যই বিবেচনা করবে।

সম্প্রতি বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমে আসার বিষয়টি তুলে ধরে এক সাংবাদিক জানতে চান, তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০২ ডলারের কাছাকাছি থাকাকালে দেশে দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। বর্তমানে বিশ্ববাজারে দাম কমে আসায় দেশের বাজারে কত দ্রুত তা সমন্বয় করা হবে।

জবাবে উপদেষ্টা বলেন, সরকার যে দরে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করেছিল, বিশ্ববাজারের বর্তমান দাম তার তুলনায় কিছুটা কম। তবে দাম কমার পেছনের কারণটিও বিবেচনায় নিতে হবে। এর আগে দাম কমার পর কয়েক দিনের মধ্যেই আবার তা বেড়ে ১০৬ থেকে ১০৭ ডলারে উঠেছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বর্তমান দরপতনের কারণ হিসেবে ইউরোপের দেশগুলোর কৌশলগত মজুত থেকে তেল বাজারে ছাড়ার বিষয়টি তুলে ধরেন জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউরোপকে তাদের কৌশলগত মজুত থেকে তেল ছাড়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলো বড় পরিমাণ তেল বাজারে ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে।

তেলের দাম বর্তমান পর্যায়ে দীর্ঘ সময় স্থিতিশীল থাকবে কি না, তা নিয়ে সতর্ক থাকার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিও এখনও পুরোপুরি স্থিতিশীল হয়নি। সেখানে সামরিক উত্তেজনা ও সংঘাতের আশঙ্কা রয়েছে। ফলে বর্তমান বাজারদরকে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীল দাম হিসেবে ধরে নেওয়া কঠিন।

জাহেদ উর রহমান বলেন, তেলের মূল্য যদি মোটামুটি একটি স্থিতিশীল অবস্থায় আসে এবং কমমূল্যে স্থিতিশীল থাকে, তাহলে সরকার অবশ্যই দেশের বাজারে দাম সমন্বয়ের বিষয়টি বিবেচনা করবে।

তিনি আরও বলেন, জ্বালানি তেলের দাম ও মূল্যস্ফীতির মধ্যে সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। জ্বালানির দাম বাড়লে মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়ে এবং বিনিয়োগ কমে যেতে পারে। এতে কর্মসংস্থানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা বলেন, মূল্যস্ফীতি এবং জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে বিনিয়োগ কমে যাওয়ার সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ে জনগণের ওপর। একটি দেশের ব্যবসা ও বিনিয়োগ কমে গেলে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি কমে যায়। এতে মানুষ চাকরি হারাতে পারে, নতুন চাকরির সুযোগ কমে এবং বিদ্যমান কর্মীদের বেতনও বাড়ে না। ফলে বিষয়টি সরকারের জন্যও ইতিবাচক নয়।

তিনি বলেন, সরকার এ বিষয়ে সংবেদনশীল। পরিস্থিতি অনুকূলে এলে জ্বালানি তেলের দাম কমানোর বিষয়টিও বিবেচনা করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে জ্বালানি তেলের পাশাপাশি তিস্তা মহাপরিকল্পনা, সেন্টমার্টিনের পর্যটন ও পরিবেশ রক্ষা এবং পরিবেশ নিয়ে বেসরকারি উদ্যোগের সঙ্গে সরকারের সহযোগিতার বিষয়েও কথা বলেন জাহেদ উর রহমান।

তিস্তা মহাপরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার প্রকল্পটি বাস্তবায়নে আগ্রহী এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। তবে প্রকল্পের অর্থায়ন চীন করবে, বাংলাদেশ করবে নাকি অন্য কোনো দেশ করবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

তিনি বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনার প্রাথমিক ধারণায় নদীশাসন, ভাঙন রোধ ও ভূমি পুনরুদ্ধারের বিষয়টি ছিল। নতুন পরিকল্পনায় বর্ষার পানি সংরক্ষণ করে শুষ্ক মৌসুমে ব্যবহারের বিষয়টিও যুক্ত করার সম্ভাবনা যাচাই করা হচ্ছে।

চীনের সহযোগিতা প্রসঙ্গে জাহেদ উর রহমান বলেন, তিস্তা প্রকল্পের কারিগরি বিষয়গুলোতে চীনের সহযোগিতা নিয়ে সমঝোতার মতো একটি অবস্থান হয়েছে। তবে প্রকল্পটি শেষ পর্যন্ত কাকে দিয়ে এবং কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে, সে সিদ্ধান্ত এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

সেন্টমার্টিন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দ্বীপটির পরিবেশ ও প্রতিবেশ রক্ষায় পর্যটকদের যাতায়াতের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়সীমা রাখার সিদ্ধান্ত বহাল রয়েছে। দ্বীপটির ওপর অতিরিক্ত চাপ কমানো এবং এর ইকোসিস্টেম ও অস্তিত্ব রক্ষার জন্য এ ধরনের ব্যবস্থা জরুরি।

এ ছাড়া সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দলীয় ব্যবস্থার পাশাপাশি ফৌজদারি আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, সাংবাদিক পেটানোর ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। যারা এ ঘটনায় জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে অপরাধের ধরন অনুযায়ী ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিভাগের আরও সংবাদ