শিরোনাম
Advertisement
দৈনিক টেলিগ্রাম

'মানিকগঞ্জের হাজারী গুড় জিআই পণ্যের স্বীকৃতি পাওয়ায় এর চাহিদা বেড়ে গেলেও এর উৎপাদন বাড়ছে না'

Advertisement
হরিরামপুরের ঐতিহ্যবাহী হাজারী পাড়ায় গুড় উৎপাদনকারীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা।

মানিকগঞ্জের হরিরামপুরের ঐতিহ্যবাহী হাজারী গুড় জিআই পণ্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় গুড়ের চাহিদা বেড়ে গেছে। কিন্তু খেজুর গাছের সংখ্যা এবং গাছীর সংখ্যা দিন দিন কমে যাওয়ায় হাজারী গুড়ের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পুরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। এই সুযোগে অনেকেই নকল হাজারী গুড় তৈরি করে এর সুনাম নষ্ট করছে। এই গুড়ের চাহিদা পূরণ, এর সুনাম রক্ষা করতে হলে খেজুড় গাছের চারা রোপন করতে হবে এবং ভেজালবিরোধী অভিযান করতে হবে। পাশাপাশি এর পৃষ্ঠপোষকতার জন্য সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে।

আজ মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার বাল্লা ইউনিয়নের ঝিটকা মধ্যপাড়া হাজারী পাড়ায় হাজারী গুড় উৎপাদনকারীদের সাথে মতবিনিময় সভায় এমন চিত্র উঠে আসে।

হরিরামপুর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এই সভয় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা।

হরিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা আক্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় বক্তব্য রাখেন ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) খায়রুল ইসলাম, মানিকগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বিশ্বাস, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. তৌহিদুজ্জামান খান, সহকারি কমিশনার (ভূমি) ফাহিজা বীসরাত হোসেন, হরিরামপুর থানার অফিসার-ইন-চার্জ (ওসি) জে ও এম তৌফিকুল আজম, হাজারী পরিবারের সপ্তম বংশধর শফিকুল ইসলাম শামীম হাজারী, বাল্লা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বাচ্চু মিয়া, জেলা কৃষকদলের সহসভাপতি দেলোয়ার হোসেন, বাল্লা ইউনিয়ন বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক জহিরুল আলম ভুইয়া তারেকসহ হাজারী গুড় উৎপাদনকারী গাছিরা বক্তব্য রাখেন।

বক্তারা বলেন, হাজারী গুড়ের জিআই স্বীকৃতি এ অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী এ পণ্যের পরিচিতি এবং চাহিদা আরও বেড়ে গেছে। একারণে গুড় উৎপাদনকারী পরিবারগুলোর অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়ন এবং স্থানীয় ঐতিহ্য সংরক্ষণে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে।

আব্দুল করিম গাছি বলেন, ‘এখানে ৩৫টি পরিবার হাজারী গুড় তৈরির সাথে জড়িত। দিনদিন এই সংখ্যা কমে যাচ্ছে। গাছেরও ঘাটতি রয়েছে। গাছের সংখ্যা বাড়াতে হবে। জ্বালানী সংকটের কারণেও গুড়ের উৎপাদন ব্যহত হচ্ছে।’

নবীন গাছি সাব্বির খান, ‘অন্য এলাকায় গিয়ে গাছ কাটতে হয়। প্রভাবশালীরা গাছ থেকে রস নিয়ে যায়। এব্যাপারে প্রশাসনের ভূমিকা রাখতে হবে।’

গাছি মিজানুর রহমান বলেন, ‘খেজুড় গাছের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। গাছের চারা লাগাতে হবে। আমরা প্রশিক্ষণ দিবো যাতে নতুন প্রজন্মের সন্তানরা শিখতে পারে। গুড় যাতে ভেজাল না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।’

জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা বলেন, ‘
হাজারী গুড়ের ঐতিহ্য, উৎপাদন প্রক্রিয়া, গুণগত মান সংরক্ষণ এবং জিআই স্বীকৃতির ফলে এ অঞ্চলের গুড় উৎপাদনকারীদের সম্ভাবনা রয়েছে। আজকের সভায় হাজারী গুড় উৎপাদনকারীদের কথা শুনেছি। উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের ক্ষেত্রে তাদের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে তার সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণ করবো।’

তিনি বলেন, ‘জিআই পণ্য হিসেবে হাজারী গুড় স্বীকৃতি পাওয়ার পর এর চাহিদা বেড়ে গেছে। এজন্য জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে খেঁজুর গাছ রোপণের কর্মসূচী চলমান আছে। এসব গাছের পরিচর্যা করতে হবে স্থানীয়দের। বায়োগ্যাসের মাধ্যমে জ্বালানী সংকট দূর করতে এবার পরীক্ষামূলকভাবে কাজ শুরু করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।’

এ বিভাগের আরও সংবাদ