বুধবার

১৩ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৩০শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ধাপে ধাপে আসছে নবম পে স্কেল, বাড়তে পারে নানা ভাতা

🕙 প্রকাশিত : ১১ মে, ২০২৬ । ৫:৪৯ পূর্বাহ্ণ

দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য প্রস্তাবিত নবম পে স্কেল একসঙ্গে নয়, বরং ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছে সরকার। এ লক্ষ্যে আগামী অর্থবছরের বাজেটে আংশিক বাস্তবায়নের জন্য প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকার প্রাথমিক বরাদ্দের প্রস্তাব রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, নতুন পে স্কেল তিন ধাপে কার্যকর করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক সক্ষমতা, মূল্যস্ফীতি ও রাজস্ব আয়ের পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে এর পূর্ণ বাস্তবায়ন। ফলে ২০২৮-২৯ অর্থবছরের আগে পুরো কাঠামো কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা কম।
নতুন বেতন কাঠামোর সঙ্গে বিভিন্ন ভাতা বাড়ানোর সুপারিশও করা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, বর্তমানে মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে দেওয়া বৈশাখী ভাতা বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করা হতে পারে। এছাড়া ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের টিফিন ভাতা ২০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার টাকা এবং সন্তানদের জন্য শিক্ষা ভাতা মাসিক ১ হাজার ৫০০ টাকা বাড়িয়ে ২ হাজার টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে।
সরকার নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নে দুটি পদ্ধতি বিবেচনায় রেখেছে। একটি হলো তিন ধাপে বাস্তবায়ন, অন্যটি হলো পরবর্তী দুই অর্থবছরে ধাপে ধাপে বেতন বৃদ্ধি। প্রথম প্রস্তাব অনুযায়ী, আগামী অর্থবছরে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে। পরবর্তী বছরগুলোতে বাকি অংশ সমন্বয় করা হবে। একই সঙ্গে বাড়িভাড়া ও অন্যান্য ভাতা তৃতীয় বছরে দুই ধাপে কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এ বিষয়ে মূল্যস্ফীতি, রাজস্ব আয় ও সামগ্রিক আর্থিক সক্ষমতা পর্যালোচনার জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির চূড়ান্ত সুপারিশ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা শেষে অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, নবম পে স্কেল পুরোপুরি বাস্তবায়নে প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হবে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধিতে। এছাড়া পেনশনভোগী ও এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্যও বাড়তি অর্থ বরাদ্দ প্রয়োজন হবে।
আগামী অর্থবছরের জাতীয় বাজেটের সম্ভাব্য আকার ধরা হচ্ছে প্রায় ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ১৮ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হতে পারে ৬ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা।
বর্তমানে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতার পেছনে বছরে প্রায় ৮৪ হাজার ১১৪ কোটি টাকা এবং পেনশনভোগীদের জন্য প্রায় ৩৫ হাজার ৬৫৭ কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে। সব মিলিয়ে প্রায় ১৪ লাখ চাকরিজীবী ও ৯ লাখ পেনশনভোগীর জন্য সরকারের মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা।
নবম পে কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, নতুন বেতন কাঠামোতে ২০টি গ্রেড রাখা হয়েছে। এতে সর্বনিম্ন বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগে ২০১৫ সালে অষ্টম জাতীয় পে স্কেলও দুই ধাপে বাস্তবায়ন করা হয়েছিল। সে সময় প্রথমে মূল বেতন এবং পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন ভাতা কার্যকর করা হয়। এবারও একই ধরনের কৌশলে নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের পথে হাঁটছে সরকার।

এ বিভাগের আরও সংবাদ

spot_img

সর্বশেষ সংবাদ