আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নেতৃত্ব বিকাশের স্বপ্ন নিয়ে হার্ভার্ডের অধ্যাপকদের প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী ‘অ্যাস্পায়ার লিডারস প্রোগ্রাম ২০২৬’ (ব্যাচ-৩)-এ অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছেন বাংলাদেশের তরুণ ওমর ফারুক।
২০১৫ সাল থেকে বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত ওমর ফারুক দীর্ঘদিন ধরে নেতৃত্ব ও তরুণদের উন্নয়নমূলক কাজে কাজ করছেন। বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সঙ্গে টিম পরিচালনা, ইভেন্ট পরিকল্পনা এবং সামাজিক যোগাযোগের ব্যবহারিক অভিজ্ঞতা অর্জন তাঁকে এই আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে আবেদন করতে উদ্বুদ্ধ করে।
এর আগে ২০২৫ সালে নেপালে অনুষ্ঠিত একটি আন্তর্জাতিক বুটক্যাম্পে অংশগ্রহণের সুযোগ পেলেও ভিসা জটিলতায় তিনি শেষ পর্যন্ত অংশ নিতে পারেননি। তবে সেই প্রতিবন্ধকতা তাঁকে থামিয়ে রাখেনি; বরং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শেখার অদম্য আগ্রহকে আরও বাড়িয়ে দেয়। পরবর্তীতে চলতি বছরের মে মাসে তিনি দ্য অ্যাস্পায়ার লিডারস প্রোগ্রামে আবেদন করেন এবং চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হন।
নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে ওমর ফারুক বলেন, “আন্তর্জাতিক নেতৃত্ব উন্নয়ন কর্মসূচিতে বাংলাদেশ থেকে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়ে আমি নিজেকে অত্যন্ত সৌভাগ্যবান মনে করছি। অনলাইনে আবেদন জমা দেওয়ার পর থেকেই অপেক্ষায় ছিলাম। নির্বাচিত হওয়ার ই-মেইলটি পেয়ে মনে হয়েছে স্বপ্নের পথে আরও একধাপ এগিয়ে গেলাম।”
অ্যাস্পায়ার লিডারস প্রোগ্রাম সম্পর্কে:
‘দ্য অ্যাস্পায়ার লিডারস প্রোগ্রাম’ একটি সম্পূর্ণ অর্থায়িত আন্তর্জাতিক নেতৃত্ব উন্নয়ন উদ্যোগ। ২০১৭ সালে হার্ভার্ড বিজনেস স্কুলের অধ্যাপকেরা হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে এটি প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীতে ২০২১ সাল থেকে এটি স্বাধীন অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ‘অ্যাস্পায়ার ইনস্টিটিউট’ (Aspire Institute)-এর অধীনে পরিচালিত হয়ে আসছে। এখন পর্যন্ত বিশ্বের ১৯৫টি দেশের ৫ লাখেরও বেশি তরুণ এতে অংশ নিয়েছেন।
সম্পূর্ণ অনলাইনে বিনামূল্যে পরিচালিত ৯ সপ্তাহের এই প্রোগ্রামটি মোট তিনটি মডিউলে বিভক্ত। এর মাধ্যমে মূলত বিশ্বজুড়ে সীমিত আয়ের এবং পরিবারের প্রথম প্রজন্মের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের তাদের নিজস্ব সম্প্রদায়ে নেতৃত্বের জন্য প্রস্তুত করা হয়।
প্রোগ্রামের সুবিধা ও বৈশিষ্ট্য:
এই প্রোগ্রামের মাধ্যমে ঘরে বসেই হার্ভার্ডসহ বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর খ্যাতিসম্পন্ন শিক্ষক, প্রশিক্ষক ও বিশেষজ্ঞদের মাস্টার ক্লাসে অংশ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এছাড়া অংশগ্রহণকারীরা বিশ্বজুড়ে বিস্তৃত তরুণদের সঙ্গে নেটওয়ার্কিং, আইডিয়া বাস্তবায়নের জন্য অর্থায়ন, ব্যবহারিক দক্ষতা উন্নয়ন কর্মশালা এবং উচ্চশিক্ষার জন্য আর্থিক অনুদান পাওয়ার সুযোগ পান।

