মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ঘিরে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও নিরাপত্তা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

🕙 প্রকাশিত : ২৪ জুলাই, ২০২৬ । ১০:২২ এএম

যুদ্ধবিরতি ভেঙে যাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত নতুন করে তীব্র আকার ধারণ করেছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংঘাত পুনরায় শুরুর ১২ দিনের মাথায় মার্কিন বাহিনী ইরানের সামরিক পরিচালনা কেন্দ্র, বিমান হ্যাঙ্গার, ড্রোন সংরক্ষণাগার এবং রসদ সরবরাহ অবকাঠামোসহ একাধিক সামরিক স্থাপনায় বি-১ দূরপাল্লার বোমারু বিমান ব্যবহার করে হামলা চালিয়েছে। এসব বিমান যুক্তরাজ্যের একটি ঘাঁটি থেকে উড্ডয়ন করে এবং ভারী বোমা ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র বহনে সক্ষম।

এদিকে লোহিতসাগরে সৌদি আরবের একটি জাহাজে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের হামলার ঘটনায় বাব-আল-মানদেব প্রণালিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। একই সময়ে হরমুজ প্রণালিতে কোনো জাহাজের ওপর ইরানের হামলার জবাবে দেশটির সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

বিশ্বের জ্বালানি ও বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ ও বাব-আল-মানদেব প্রণালিতে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি আন্তর্জাতিক অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকি হিসেবে দেখা হচ্ছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের মোট তেল ও জ্বালানি সরবরাহের প্রায় ২০ থেকে ২৫ শতাংশ এবং বাব-আল-মানদেব প্রণালি দিয়ে প্রায় ১০ থেকে ১২ শতাংশ বৈশ্বিক বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহন সম্পন্ন হয়। এ দুটি নৌপথে বিঘ্ন সৃষ্টি হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে। এর ফলে মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধি, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ব্যাহত হওয়া এবং জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশগুলোর ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামের মতো দেশগুলোও এর প্রভাবের বাইরে থাকবে না। তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে পরিবহন ব্যয়, উৎপাদন খরচ এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ বাড়তে পারে।

এ ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত প্রবাসী শ্রমিকদের কর্মসংস্থান ও রেমিট্যান্স প্রবাহও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ও অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও এর প্রভাব পড়তে পারে। যুদ্ধ পরিচালনার ব্যয় বৃদ্ধি এবং জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে দেশটিতে মুদ্রাস্ফীতি বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা রাজনৈতিক অঙ্গনেও প্রভাব ফেলতে পারে।

পর্যবেক্ষকদের মতে, কেবল সাময়িক যুদ্ধবিরতি নয়, বরং একটি কার্যকর ও স্থায়ী কূটনৈতিক সমঝোতাই বর্তমান সংকট নিরসনের একমাত্র বাস্তবসম্মত পথ। এ জন্য জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী দেশগুলোর সমন্বিত উদ্যোগের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

এ বিভাগের আরও সংবাদ

spot_img

সর্বশেষ সংবাদ