২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ ঘিরে উত্তেজনা দিন দিন বাড়ছে। বিশেষ করে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য মুখোমুখি লড়াই নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহ এখন তুঙ্গে। টুর্নামেন্টের সমীকরণ অনুযায়ী, দুই দল নিজেদের নকআউট পর্বের ম্যাচগুলো জিততে পারলে ফাইনালের আগেই সেমিফাইনালে দেখা হতে পারে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই পরাশক্তির।
ফিফা গত বছরের ডিসেম্বরে বিশ্বকাপের সূচি প্রকাশ করার পর থেকেই এমন সম্ভাবনার আলোচনা শুরু হয়। এবার গ্রুপপর্বে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে নকআউটে জায়গা নিশ্চিত করেছে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা।
মায়ামিতে স্কটল্যান্ডকে ৩-০ গোলে হারিয়ে ‘সি’ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ব্রাজিল। শেষ বত্রিশে তাদের প্রতিপক্ষ জাপান। ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২৯ জুন হিউস্টনে, বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায়।
অন্যদিকে আর্জেন্টিনা এখনও গ্রুপপর্বের একটি ম্যাচ খেলেনি। তবে আলজেরিয়া ও অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জয় পাওয়ায় ইতোমধ্যে ‘জে’ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন নিশ্চিত করেছে লিওনেল মেসির দল। পরবর্তী ম্যাচে তারা মুখোমুখি হবে জর্ডানের।
শেষ বত্রিশে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ হবে ‘এইচ’ গ্রুপের রানার্সআপ দল। স্পেন, উরুগুয়ে, কেপ ভার্দে ও সৌদি আরবের ম্যাচগুলোর ফলাফলের দিকে তাই নজর থাকবে আর্জেন্টাইন সমর্থকদের।
নকআউট পর্বে দুই দলের পথ অবশ্য সহজ নয়। আর্জেন্টিনা শেষ ষোলো বা কোয়ার্টার ফাইনালে প্যারাগুয়ে, অস্ট্রেলিয়া, বেলজিয়াম কিংবা পর্তুগালের মতো শক্ত প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হতে পারে। সেক্ষেত্রে শেষবারের মতো বিশ্বকাপে খেলতে নামা লিওনেল মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর সম্ভাব্য দ্বৈরথও দেখা যেতে পারে শেষ আটে।
অন্যদিকে ব্রাজিলকে জাপানের পর সম্ভাব্যভাবে নরওয়ে, ফ্রান্স কিংবা ইংল্যান্ডের মতো দলের বাধা পেরোতে হতে পারে।
তবে সব হিসাব মিললে এবং দুই দল নিজেদের প্রথম তিনটি নকআউট ম্যাচে জয় পেলে, আটলান্টায় অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা। বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় শুরু হতে পারে সেই বহুল প্রতীক্ষিত লড়াই।
বিশ্বকাপ ইতিহাসে এখন পর্যন্ত চারবার মুখোমুখি হয়েছে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দল। এর মধ্যে ব্রাজিল জিতেছে দুটি ম্যাচ, আর্জেন্টিনা একটি এবং একটি ম্যাচ ড্র হয়েছে। সবশেষ ১৯৯০ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা ১-০ গোলে হারিয়েছিল ব্রাজিলকে।

