শিরোনাম
Advertisement
জাতীয়

ছাত্রদলের রাজার নেতৃত্বে সহশ্রাধিক নেতাকর্মীর পদযাত্রা

Advertisement
শেরেবাংলা নগরে ছাত্রদলের প্রতিবাদী পদযাত্রা

আরও পড়ুন

“অন্যায়ের বিরুদ্ধে তারুণ্য, ন্যায়বিচারের পক্ষে বাংলাদেশ” এবং “স্মৃতি হোক প্রতিরোধের শক্তি, জবাবদিহি হোক সবার জন্য”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে শেরেবাংলা নগর থানা ছাত্রদলের আহ্বায়ক রাজা আহমেদ মিন্টুর আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে এক বিশাল ও সফল ‘প্রতিবাদী পদযাত্রা’। গত ১৬ই অক্টোবর আয়োজিত এই কর্মসূচীতে প্রায় ৫ শতাধিক ছাত্রদলের নেতাকর্মী ও সাধারণ তরুণেরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।
পদযাত্রা চলাকালে সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নামে হাজারো কণ্ঠে ওঠা মুহুর্মুহু স্লোগানে পুরো এলাকা মুখরিত ও প্রকম্পিত হয়ে ওঠে।
কর্মসূচিটি রাজধানীর ৬০ ফিট এলাকা থেকে শুরু হয়ে তিতাস ভবন (কলাপাতা) অতিক্রম করে রেডিও সেন্টারে গিয়ে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। সমাবেশে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে বিগত ১৬ বছরের হত্যা, গুম এবং রাজনৈতিক নিপীড়নের তীব্র প্রতিবাদ জানান মূল আয়োজক রাজা আহমেদ মিন্টু।

সংক্ষিপ্ত সমাবেশে আওয়ামী লীগের বিচার ও রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে মিন্টু বলেন, “আওয়ামী লীগ রাজনীতিতে আসবে কি আসবে না, তা আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। তারা রাজনৈতিকভাবে আজ নিষিদ্ধ ও ঘৃণিত। বিগত ১৭ বছর আমরা চরম প্রতিকূল পরিবেশে রাজনীতি করেছি, কিন্তু আমাদের কিন্তু কেউ নিষিদ্ধ করার সুযোগ পায়নি। কারণ আমরা রাষ্ট্র ধ্বংসে মেতে উঠিনি, আমরা দেশ বিক্রি করতে নামিনি—যে আমাদের নিষিদ্ধ করার সুযোগ সৃষ্টি হবে।”
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আওয়ামী লীগ সরকার যেভাবে নির্বিচারে মানুষ হত্যা করেছে, তা নজিরবিহীন। একটি অবুঝ ৫ বছরের বাচ্চাকেও তারা রেহাই দেয়নি, তাকেও গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এই রক্তপিপাসু রাজনৈতিক অপশক্তির প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের জবাবদিহি শেষ পর্যন্ত সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর কাছেই করতে হবে।”
এদিন গণমাধ্যমের সামনে বুয়েটের আবরার ফাহাদ হত্যা, দর্জি বিশ্বজিৎ দাস হত্যা এবং সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনির নির্মম হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান তিনি।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতিতে রাজা আহমেদ মিন্টু মাঠপর্যায়ের একজন পরিচিত রাজনৈতিক মুখ। বিগত দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে কাজী অফিস ইউনিট ছাত্রদলের সভাপতি, ৪১ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক, ওয়ার্ড বিএনপির সহ-ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক এবং ২০১৭ সালে ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন শেষে বর্তমানে তিনি শেরেবাংলা নগর থানা ছাত্রদলের আহ্বায়কের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক প্রতিকূলতা ও রাজপথের মামলা-হামলার পাশাপাশি নিজ এলাকায় সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জনে তিনি বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছেন। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে সোহরাওয়ার্দী ও পঙ্গু হাসপাতালে আহতদের সুরক্ষায় ভূমিকা রাখা, ৫ই আগস্ট-পরবর্তী সময়ে হাসপাতালে দালালচক্র প্রতিহত করা, নিজ এলাকায় নৈশপাহারা, নোয়াখালীতে বন্যা দুর্গতদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ এবং রমজানে ইফতার ও বিশুদ্ধ পানি বিতরণের মতো কাজগুলোর মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে তিনি বিএনপি ও ছাত্রদলের ইতিবাচক অবস্থান বজায় রাখার চেষ্টা করছেন।

সমাবেশের সমাপনী বক্তব্যে রাজা আহমেদ মিন্টু স্পষ্ট করে বলেন, গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে আর কোনো অন্যায়, বিচারহীনতা কিংবা রাজনৈতিক স্বৈরাচারকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। তারুণ্যের শক্তিকে সাথে নিয়ে অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই এবং সর্বস্তরে ন্যায়বিচার ও জবাবদিহি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ছাত্রদলের প্রতিবাদী সংগ্রাম রাজপথে অব্যাহত থাকবে।
পদযাত্রার কোনো নির্দিষ্ট ছবির জন্য কোড প্রয়োজন হলে বা আরও পরিবর্তন করতে চাইলে জানাবেন!

এ বিভাগের আরও সংবাদ