শিরোনাম
Advertisement
সারাদেশ

মানিকগঞ্জে এলপিজির দাম নিয়ে ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, জেলা প্রশাসনের মতবিনিময়

Advertisement
মানিকগঞ্জে এলপিজির বাজারমূল্য নিয়ে মতবিনিময় সভায় জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা

মানিকগঞ্জে এলপিজির বাজারমূল্য পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ (রোববার) বিকেলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ সভার আয়োজন করে জেলা প্রশাসন।

মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানার সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কামরুল, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাসুদ আলী শাহরিয়ার, মানিকগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বিশ্বাস, মানিকগঞ্জ চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আব্দুস সালাম, কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ (ক্যাব) জেলা শাখার সভাপতি এবিএম সামছুন্নবী তুলিপ, জেলা এলপিজি পরিবেশক সমিতির সভাপতি মো. লোকমান মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক মো. মাসুদ মিয়া।

জেলার বিভিন্ন এলাকার পরিবেশকগ এই সভায় উপস্থিত থেকে আলোচনায় অংশ নেন।

সভায় এলপিজির বাজার পরিস্থিতি, মূল্য স্থিতিশীল রাখা এবং বাজারে সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখার বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

সভায় এলপিজির মূল্য পরিস্থিতি পর্যালোচনার পাশাপাশি বাজারে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং ভোক্তাদের স্বার্থ সংরক্ষণের বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

এদিকে, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) বিক্রি করতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন মানিকগঞ্জের এলপিজি গ্যাস ব্যবসায়ীরা।

পরিবহন, শ্রমিকের মজুরি, লোড-আনলোড ও অন্যান্য খরচ বেড়ে যাওয়ায় নির্ধারিত দামে গ্যাস বিক্রি করে লোকসান গুনতে হচ্ছে বলে দাবি তাঁদের। এ পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ীদের ন্যায্য স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে মানিকগঞ্জ জেলা এলপিজি গ্যাস পরিবেশক সমিতি।

আজ (রোববার) মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কাছে দেওয়া এক স্মারকলিপিতে এ দাবি জানানো হয়।

সমিতির সভাপতি মো. লোকমান মোল্লা ও সাধারণ সম্পাদক মো. মাসুদ মিয়া স্মারকলিপিতে স্বাক্ষর করেন।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, চলমান সংকটময় পরিস্থিতিতে কোম্পানিগুলো থেকে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে গ্যাস কিনতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন ২০২৬ সালের অক্টোবর মাসের জন্য ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের মূল্য ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করেছে। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন মোতাবেক কোম্পানি পরিবেশকদের নিকট ১৭৪২ টাকায় পৌঁছে দেওয়ার কথা। কিন্তু এই মুহূর্তে বাংলাদেশের প্রায় সকল এলপিজি গ্যাস কোম্পানি পরিবেশকদের নিকট কোম্পানি ভেদে ১৭৪২ টাকা থেকে শুরু করে ২০০০ টাকা পর্যন্ত গ্যাস বিক্রি করছে এবং কোনরূপ কমিশন ও ভাড়া প্রদান করছে না। সেক্ষেত্রে পরিবেশকগণ অধিক মূল্যে গ্যাস ক্রয় করে কোনভাবেই বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের নির্ধারিত মূল্যে গ্যাস বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন কর্তৃক নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী খুচরা পর্যায়ে গ্যাস বিক্রয় করতে না পারার কারণে ব্যবসায়ীরা অপরাধী হচ্ছেন এবং তাঁদের সম্মানহানি হচ্ছে বলে স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

সমিতির দাবি, কোম্পানি থেকে পরিবেশকদের কাছে গ্যাস পৌঁছানো পর্যন্ত পরিবহনসহ বিভিন্ন খাতে অতিরিক্ত ব্যয় হয়। এ কারণে নির্ধারিত মূল্যে গ্যাস বিক্রি করতে গেলে ব্যবসায়ীদের লোকসান গুনতে হচ্ছে। অন্যদিকে, বেশি দামে বিক্রি করলে ভোক্তা অধিকার ও নির্ধারিত মূল্যসংক্রান্ত বিধিবিধানের জটিলতায় পড়তে হচ্ছে তাঁদের।

কোম্পানি থেকে গ্যাস সংগ্রহ, ডিপো থেকে খুচরা পর্যায়ে পরিবহন, লোড-আনলোড, লাইসেন্সসহ এসব খরচ সমন্বয় করে ব্যবসা পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

তাঁরা বলেন, মংলা বন্দর দিয়ে যেসব কোম্পানি গ্যাস আমদানি করে, তাদের অতিরিক্ত খরচের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। বর্তমান পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ীদের ন্যায্য স্বার্থ রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।

এ বিভাগের আরও সংবাদ