দেশের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমদানিকৃত খাদ্যশস্যের গুণগত মান যাচাইয়ে কোনো ধরনের শৈথিল্য গ্রহণযোগ্য নয় বলে জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম এমপি। তিনি বলেছেন, খাদ্যশস্য আমদানি, পরিবহন, সংরক্ষণ ও বিতরণের প্রতিটি পর্যায়ে সততা, দক্ষতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।
রোববার চট্টগ্রাম বন্দরের পতেঙ্গা বহির্নোঙরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানিকৃত গমবাহী জাহাজ এমভি ‘স্প্রিং স্কাই’ (MV SPRING SKY) পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
খাদ্যমন্ত্রী বলেন, নির্ধারিত প্যারামিটার ও মানদণ্ড অনুসরণ করে আমদানিকৃত গমের গুণগত মান পরীক্ষা করতে হবে। পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে যথাযথ সিদ্ধান্ত নিতে হবে, যাতে কোনোভাবেই নিম্নমানের খাদ্যশস্য গ্রহণ বা সরবরাহের সুযোগ না থাকে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সততা, পেশাদারত্ব ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখা জরুরি।
তিনি আরও বলেন, পরীক্ষার প্রতিবেদন ও মান যাচাইয়ের ফলাফলের ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তাই খাদ্যশস্যের মান নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
খাদ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর ওপর দেশের খাদ্য ব্যবস্থাপনার মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব অর্পণ করেছেন। এ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের মাধ্যমে জনগণের প্রত্যাশা পূরণে তিনি সবার দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেন।
আমদানিকৃত খাদ্যশস্য নির্ধারিত মান বজায় রেখে যথাসময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো এবং সঠিকভাবে সংরক্ষণের জন্য সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দেন আফরোজা খানম। তিনি বলেন, খাদ্য ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও দক্ষতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনার মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে, এখন পর্যায়ক্রমে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে এ জন্য কিছুটা সময় লাগবে।
খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা একটি গুরুত্বপূর্ণ জনসেবামূলক দায়িত্ব। জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে প্রত্যেককে নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে কাজ করতে হবে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পেশাগত দক্ষতা, কাজের প্রতি আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার যথাযথ মূল্যায়ন করা হবে।
সাধারণ মানুষের খাদ্য চাহিদা ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সমস্যার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের কোনো মানুষ যেন খাদ্যসংকটে না পড়েন এবং প্রত্যেকের কাছে সময়মতো খাদ্য পৌঁছে দেওয়া যায়, সে লক্ষ্যেই সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। খাদ্য ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর ও জনকল্যাণমুখী করতে সংশ্লিষ্ট সবার দায়িত্বশীল ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
পরিদর্শনকালে খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, খাদ্য বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।





