শিরোনাম
Advertisement
সারাদেশ

খুলনায় সাব-রেজিস্ট্রারকে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় ধোঁয়াশা

Advertisement
খুলনা সদর সাব-রেজিস্ট্রার তন্ময় কুমার মন্ডলকে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় তদন্ত করছে পুলিশ।

আরও পড়ুন

খুলনা সদর সাব-রেজিস্ট্রার তন্ময় কুমার মন্ডলকে প্রকাশ্য দিবালোকে কারা নিয়ে গিয়েছিল এবং প্রায় এক ঘণ্টা পর কীভাবে তিনি ফিরে এলেন—এ নিয়ে রহস্য তৈরি হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও আটকের চেষ্টা করছে পুলিশ।

বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুর আড়াইটার দিকে নগরীর প্রাণকেন্দ্র কে ডি ঘোষ রোডে অবস্থিত সদর সাব-রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলের কাছেই খুলনা সিটি করপোরেশন, পুলিশ সুপার ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয় এবং কেসিসি সুপার মার্কেট রয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুর আড়াইটার দিকে সদর সাব-রেজিস্ট্রারের কার্যালয় থেকে কয়েকজন তন্ময় কুমার মন্ডলকে একটি মোটরসাইকেলের মাঝখানে বসিয়ে ভৈরব নদীর জেলখানা ঘাটের দিকে নিয়ে যায়। বিষয়টি জানাজানি হলে পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর হয়। প্রায় এক ঘণ্টা পর তিনি নিজ কার্যালয়ে ফিরে আসেন।

ফিরে এসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তন্ময় কুমার মন্ডল বলেন, কারা তাকে নিয়ে গিয়েছিল তা তিনি বলতে পারছেন না। তবে তারা ভৈরব নদীর কাছে কিছু কাজ আছে বলে জানিয়েছিল।

তবে তিনি জানান, যারা তাকে নিয়ে গিয়েছিল তারা পরিচিত। কেসিসি মার্কেটে তাদের সঙ্গে পরিচয় হয়। অফিস থেকে বের হওয়ার সময় পরিচিত লোকজন তাকে বাইরে যেতে বললে তিনি আপত্তি করেননি। তাদের সঙ্গে দলিলসংক্রান্ত একটি বিষয় নিয়ে কথা ছিল বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে তিনি বলেন, তাকে কেউ অপহরণ করেনি।

খুলনা সদর দলিল লেখক সমিতির সভাপতি বাহাউদ্দিন খন্দকার জানান, প্রতিদিনের মতো দুপুর ২টা থেকে আড়াইটার মধ্যে সাব-রেজিস্ট্রার লাঞ্চে যাচ্ছিলেন। গেটের সামনে গিয়ে তিনি রিকশায় ওঠেন। পরে তাকে কারা তুলে নিয়ে গেছে—এমন খবর শুনে তারা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।

তিনি জানান, দলিল লেখক, নকলনবিশ ও তাদের সহকারীরা ভৈরব নদীর ঘাটে গিয়ে খোঁজ করেন। সেখানে তাকে পাওয়া যায়নি। পথে এক নারী তাদের জানান, একজন লোককে জোর করে নিয়ে যাওয়ার সময় তিনি বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। পরে বিভিন্ন সংস্থা ও থানায় বিষয়টি জানানো হয়।

খুলনা সদর থানার ওসি লোকমান হোসেন বলেন, কারা এ ঘটনায় জড়িত, তা অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। তন্ময় মন্ডলের সঙ্গে পুলিশের কথা হয়েছে। তিনি এখনও ট্রমার মধ্যে থাকায় সঠিকভাবে কোনো তথ্য বা অভিযোগ দিতে পারেননি। তবে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ঘটনার সঙ্গে তিনজন জড়িত ছিল। তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার খুলনা বিভাগীয় কো-অর্ডিনেটর অ্যাডভোকেট মোমিনুল ইসলাম বলেন, খুলনা মহানগরীর গুরুত্বপূর্ণ ও জনবহুল এলাকা থেকে সাব-রেজিস্ট্রারের মতো একজন কর্মকর্তাকে প্রকাশ্য দিবালোকে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক। দ্রুত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা না গেলে নগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা রয়েছে।

এ বিভাগের আরও সংবাদ