শিরোনাম
Advertisement
সারাদেশ

সাটুরিয়ায় ভাবী-ভাতিজা হত্যা মামলায় সোলাইমানের ১০ বছরের কারাদণ্ড

Advertisement
সাটুরিয়ায় ভাবী-ভাতিজা হত্যা মামলায় আসামি সোলাইমান হোসেনকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় পরকীয়া সম্পর্কের জেরে ভাবী ও ভাতিজাকে হত্যার মামলায় নিহতের দেবর সোলাইমান হোসেনকে (৩৪) ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। তবে এ রায়ে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে উভয় পক্ষ।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) মানিকগঞ্জের সিনিয়র দায়রা জজ আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।

মামলার নথি ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের ১০ জানুয়ারি রাতে সাটুরিয়া উপজেলার কাউন্নারা এলাকার গৃহবধূ পারভীন ও তার শিশু ছেলে নুরু মোহাম্মদকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় নিহত পারভীনের পরিবারের পক্ষ থেকে সাটুরিয়া থানায় হত্যা মামলা করা হয়।

তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, পারভীনের সঙ্গে তার দেবর সোলাইমান হোসেনের দীর্ঘদিনের পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। প্রায় পাঁচ থেকে ছয় বছর ধরে তাদের মধ্যে এ সম্পর্ক চলছিল। ঘটনার প্রায় তিন মাস আগে সোলাইমান মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফেরেন। দেশে ফেরার পর পারভীন তাকে বিয়ের জন্য চাপ দিতে থাকেন বলে তদন্তে উঠে আসে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার রাতে সোলাইমান পারভীনের কক্ষে গেলে বিয়ের বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও গালিগালাজ হয়। একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে সোলাইমান ধারালো ছুরি দিয়ে প্রথমে পারভীনের গলায় আঘাত করেন। এ সময় পাশে ঘুমিয়ে থাকা শিশু নুরু মোহাম্মদ জেগে উঠলে তাকেও ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়।

পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডের পর সোলাইমান ছুরি ও রক্তমাখা পোশাক ধুয়ে নিজ কক্ষে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন।

ঘটনার পর পুলিশ সোলাইমানকে গ্রেপ্তার করে। পরে তিনি আদালতে হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে আদালত আসামি সোলাইমান হোসেনকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেন।

তবে আদালতের দেওয়া এ রায়ে উভয় পক্ষই অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে। তারা উচ্চ আদালত, অর্থাৎ হাইকোর্টে আপিল করার কথা জানিয়েছে।

এ বিভাগের আরও সংবাদ