মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার হরগজ ইউনিয়নে পাঁচ দিন ধরে বন্ধ থাকা চলাচলের পথ অবশেষে খুলে দেওয়া হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বাঁশের বেড়া সরিয়ে দেওয়ায় স্বাভাবিক চলাচলের সুযোগ ফিরে পেয়েছে হরগজ নদীর উত্তরপাড় এলাকার ১২টি পরিবার।
বুধবার সকালে চলাচলের পথ বন্ধ করে দেওয়ার প্রতিবাদে এলাকাবাসী মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেন। পরে বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের নজরে এলে বিকেলেই ঘটনাস্থলে গিয়ে পথটি উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।
স্থানীয়রা জানান, হরগজ নদীর উত্তরপাড় এলাকার আমছের আলী ও বাচ্চু মিয়াসহ অন্তত ১২টি পরিবারের যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম ছিল ওই পুরোনো পথ। জমির সীমানা নিয়ে স্থানীয় আমীর ও মোফাজ্জল গংদের সঙ্গে বিরোধের জেরে পাঁচ দিন আগে পথটিতে বাঁশের বেড়া দিয়ে চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়।
এতে চরম দুর্ভোগে পড়েন ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর সদস্যরা। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, শিশু ও বয়োবৃদ্ধদের চলাচলে সমস্যা দেখা দেয়। অসুস্থ ও জরুরি প্রয়োজনে থাকা ব্যক্তিদেরও বাইরে যাতায়াতে ভোগান্তি পোহাতে হয়। ফলে পাঁচ দিন ধরে অনেকটা অবরুদ্ধ অবস্থায় জীবনযাপন করতে হয় পরিবারগুলোর সদস্যদের।
পথটি পুনরায় খুলে দেওয়ার দাবিতে বুধবার সকাল ১১টার দিকে হরগজ নদীর উত্তরপাড় এলাকায় মানববন্ধন করেন স্থানীয় নারী, শিশু, বয়োবৃদ্ধসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। মানববন্ধনে বক্তারা দ্রুত বাঁশের বেড়া অপসারণ করে স্বাভাবিক যাতায়াতের ব্যবস্থা করার দাবি জানান।
পরে মানববন্ধনের খবর ও ভুক্তভোগীদের দুর্ভোগের বিষয়টি জানতে পেরে দ্রুত পদক্ষেপ নেন সাটুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী মোহাম্মদ অনিক ইসলাম। তাঁর নির্দেশনায় বিকেলে ঘটনাস্থলে গিয়ে বাঁশের বেড়া সরিয়ে চলাচলের পথটি উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।
পথ উন্মুক্ত করার সময় উপস্থিত ছিলেন হরগজ ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. নুরুল ইসলাম, ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
সাটুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মোহাম্মদ অনিক ইসলাম বলেন, “উপজেলা প্রশাসন জনস্বার্থ রক্ষা ও জনভোগান্তি নিরসনে সবসময়ই সচেষ্ট। সকালে খবরটি জানার পরপরই আমরা দ্রুত সরেজমিনে গিয়ে পথটি চলাচলের উপযোগী করার ব্যবস্থা করেছি।”
প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপে পাঁচ দিনের অবরুদ্ধ জীবনের অবসান হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে ১২টি পরিবারের মাঝে। দ্রুত সমস্যার সমাধান করায় উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন স্থানীয়রা।





