শিবালয়ে খন্দকার ফ্লাওয়ার মিল মালিকের বিরুদ্ধে কোটি টাকা আত্মসাৎ এর অভিযোগ

🕙 প্রকাশিত : ২৯ জুলাই, ২০২৬ । ২:৪০ পিএম

বন্ধ মিল দেখিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা আত্মসাৎ এর অভিযোগ উঠেছে মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার মেসার্স খন্দকার ফ্লাওয়ার মিলস্ এর মালিক হাসান খন্দকারের বিরুদ্ধে। তার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন আদালতে একাধিক মামলা দায়ের করেছে ভুক্তভোগীরা। ইতিমধ্যেই কয়েকটি মামলায় তার ২২ মাস কারাদন্ড এবং ৩০ লাখ ৮০ হাজার টাকা অর্থদন্ড হয় এবং অন্য মামলাগুলি বিচারধীন রয়েছে বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে। আদালত থেকে প্রাপ্ত নথিপত্রে দেখা যায় মানিকগঞ্জের যুগ্ন দায়রা জজ ৫ম আদালতের একটি মামলায় চলতি বছরের ২৭ জুলাই হাসান খন্দকারকে ১ বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ২০ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা অর্থদন্ড দেন আদালত । সাজাপ্রাপ্ত হাসান খন্দকার মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার নিহালপুর গ্রামের মৃত ইয়ার আলী খন্দকারের ছেলে।

জেলার দৌলতপুর উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামের আব্দুল আল মামুনের কাছ থেকে ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে ২০ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা ধার নেন তিনি। ছয় মাসের মধ্যে ফেরত দেওয়ার কথা থাকলেও সে টাকা পরিশোধ না করে তাকে দেই দিচ্ছি বলে ঘুরাতে থাকেন। একপর্যায়ে হাসান খন্দকার আব্দুল আল মামুনকে ২০ লক্ষ ৫০ হাজার টাকার চেক দেন। কিন্তু টাকা তুলতে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে গিয়ে দেখা যায় তার একাউন্টে কোন টাকা নেই। এরপর সেই চেক ডিজনার করে আদালতে মামলা করেন আব্দুল আল মামুন। এছাড়াও শিবালয় উপজেলার মদন সাহার কাছ থেকে ৩ লাখ টাকা নেন প্রতারক হাসান খন্দকার । টাকা না পেয়ে বাধ্য হয়ে মদন সাহা আদালতে মামলা করে তার বিরুদ্ধে। মামলা নম্বর ৬৬৬/২১ শিবালয়। পাবনার বেড়া উপজেলার চরনাগদহ গ্রামের হেলাল উদ্দিন এর ছেলে জাহাঙ্গীর আলম হাসান খন্দকার বিরুদ্ধে ৯০ লাখ টাকা আত্মসাতের মামলা করেন। মামলায় উল্লেখ করা হয় ৩০ নভেম্বর হাসান খন্দকার তার ফ্লাওয়ার মিল এবং গোডাউন পাঁচ বছরের জন্য ভাড়া বাবদ জাহাঙ্গীর আলম এর কাছ থেকে জামানত হিসাবে ছয় লাখ টাকা নগদ গ্রহণ করেন। আট মাস মিল চালানোর পর,হাসান খন্দকার জাহাঙ্গীর আলমকে তার কর্মচারীদের মারধর করে মিল থেকে বের করে দেন এবং ৭৫ লাখ টাকার গম,আটা ও অন্যান্য মালামাল সহ মিল দখল করে নেন। এতে জাহাঙ্গীর আলম ৯০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে উল্লেখ করে আদালতে মামলা করেন । এছাড়াও মার্কেন্টাইল কো-অপারেটিভ ব্যাংক থেকে ২২ লাখ ৭০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে ১২ লাখ ৭০ হাজার টাকা পরিশোধ করেন তিনি, কিন্তু বাকী টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হন। ১০ লাখ টাকার একটি চেক দিলে তা ডিজনার হয়। পরে হাসান খন্দকারের বিরুদ্ধে ওই প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে আদালতে একটি মামলা করা হয়। মামলা নম্বর -১২৫৮(মানিক)/২০২২। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, উল্লেখিত এসব মামলা ছাড়াও খুলনা ও যশোরে,বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান তার বিরুদ্ধে একাধিক প্রতারণার মামলা করেছে।

এ বিভাগের আরও সংবাদ

spot_img

সর্বশেষ সংবাদ