ভারতে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষা সংস্কার এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে চলমান ককরোচ আন্দোলনের নেতাদের সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে ভারত সরকার।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং জানিয়েছেন, বুধবার (২২ জুলাই) বিকেল থেকে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) এবং ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধিদের কাছে আলোচনার জন্য চারটি আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।
তিনি বলেন, সরকার যেকোনো সময় আলোচনায় বসতে প্রস্তুত এবং তরুণদের জন্য এই আমন্ত্রণ উন্মুক্ত। আন্দোলনকারীদের সুবিধাজনক সময় অনুযায়ী সব বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে চায় সরকার। তিনি আরও জানান, সম্ভাব্য এই বৈঠকে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডাও অংশ নেবেন। বৈঠকটি নাড্ডার কার্যালয় বা বাসভবনে আয়োজনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
জিতেন্দ্র সিং বলেন, সরকার বিষয়টিকে কোনো মর্যাদার প্রশ্ন হিসেবে দেখছে না। বরং আলোচনার মাধ্যমে ধাপে ধাপে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছাতে চায়। শিক্ষার্থীদের কল্যাণে সরকারের চলমান উদ্যোগের অংশ হিসেবেই এই সংলাপের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
আন্দোলনকারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সবাইকে আলোচনায় অংশ নেওয়ার জন্য আন্তরিকভাবে অনুরোধ জানানো হচ্ছে।
অন্যদিকে, রাজধানী দিল্লির যন্তর মন্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ককরোচ জনতা পার্টির প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস জানান, পুলিশ তাদের জানিয়েছে যে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে তার বাসভবনে বৈঠক করতে আগ্রহী।
তবে তিনি বলেন, আন্দোলনকারীরা কারও বাসভবন বা দপ্তরে গিয়ে বৈঠক করতে রাজি নন। তাদের মতে, জনগণের দাবির বিষয়ে আলোচনা জনগণের মধ্যেই হওয়া উচিত। তাই যন্তর মন্তরেই সংলাপ অনুষ্ঠিত হওয়ার পক্ষে তারা মত দিয়েছেন।
সৌরভ দাস আরও জানান, নিরাপত্তাজনিত কোনো উদ্বেগ থাকলে বিক্ষোভস্থলের কাছাকাছি কোনো নিরপেক্ষ স্থানেও আলোচনায় বসতে তারা প্রস্তুত। তিনি বলেন, আন্দোলনকারীরা শুরু থেকেই সংলাপের পক্ষে এবং আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানকেই সর্বোত্তম পথ হিসেবে মনে করেন।

