ক্ষত কাটার পর বৃদ্ধার অবস্থার অবনতি, তদন্তে পুলিশ

🕙 প্রকাশিত : ৪ জুলাই, ২০২৬ । ১:০১ পিএম

মানিকগঞ্জের সিংগাইরে এক ফার্মেসি ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের দাবি, চিকিৎসক না হয়েও তিনি এক বৃদ্ধার শরীরের টিউমার বা ফোঁড়ার মতো অংশ ব্লেড দিয়ে কেটে দেন। এতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়ে বৃদ্ধার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। পরে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর মেয়ে সিংগাইর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। একই সঙ্গে বিষয়টি তদন্ত শুরু করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

লিখিত অভিযোগ ও ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রায় এক মাস আগে সিংগাইর উপজেলার তালেবপুর ইউনিয়নের জয়নগর গ্রামের বাসিন্দা তারা ভানু (৭০)এর শরীরে জরায়ুর পাশের অংশে টিউমারের মতো একটি সমস্যা দেখা দেয়। পরে স্থানীয় ফার্মেসি ব্যবসায়ী তুষার ফকিরকে বাড়িতে ডেকে আনা হয়। অভিযোগ রয়েছে, তিনি সেটিকে সাধারণ ফোঁড়া বলে দাবি করে কেটে দেওয়ার প্রস্তাব দেন। পরিবারের সদস্যরা আপত্তি জানালেও তিনি জোরাজুড়ি করেন। পরে গত ৩ জুন ব্লেড দিয়ে আক্রান্ত স্থান কেটে দেন।

অভিযোগে বলা হয়েছে, কাটার পরপরই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হয় এবং তারা ভানুর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। পরে ৫ জুন তাঁকে ধামরাইয়ের শ্রীরামপুর স্কয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. তোফাজ্জল হোসেন সরকার জানান, এভাবে কাটা ঠিক হয়নি এবং ভুল চিকিৎসার কারণেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

ভুক্তভোগী তারা ভানু বলেন, “প্রথমে আইসা দেখল। পরে আবার আইসা বলল, আমি কেটে দিই। কাটার পর থেকেই ক্ষতটা আরও বড় হয়ে গেছে।”

ভুক্তভোগীর পুত্রবধূ কুলসুম বলেন, “তিনি কোনো ডাক্তার নন, ফার্মেসিতে ওষুধ বিক্রি করেন। আমরা নিষেধ করার পরও তিনি কেটে দেন। এরপর ক্ষত আরও বড় হয়ে যায়।এতদিন পেরিয়ে গেলেও এখনো চিকিৎসা নিয়েই দুশ্চিন্তায় আছি।”

এ ঘটনায় তারা ভানুর মেয়ে জরিনা (৫০) সিংগাইর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে তিনি দাবি করেন, ভুল চিকিৎসার কারণে তাঁর মায়ের শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে। অভিযোগে আরও বলা হয়, বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর অভিযুক্ত তুষার ফকির তাঁদের পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন এবং প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন। অভিযোগের তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন তিনি।

ঘটনার বিষয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মানিকগঞ্জ কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেল বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রাথমিক অনুসন্ধান করা হয়েছে। অভিযুক্তকে নির্ধারিত সময়ে শুনানিতে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত তুষার ফকির। তিনি বলেন, “আমি কোনো কাটা-ছেঁড়া করিনি। আমি শুধু রোগীকে প্রাথমিক চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ দিয়েছি। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সঠিক নয়।”

সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, “এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগ পাওয়ার পরপরই একজন উপপরিদর্শককে (এসআই) ঘটনাস্থলে পাঠিয়ে প্রাথমিক তদন্ত করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এ বিভাগের আরও সংবাদ

spot_img

সর্বশেষ সংবাদ