শক্তিশালী এল নিনোর সতর্কতা, বাড়তে পারে তাপপ্রবাহ-খরা-বন্যার ঝুঁকি

🕙 প্রকাশিত : ৪ জুলাই, ২০২৬ । ৮:৪৬ এএম

আগামী জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে এল নিনো দ্রুত শক্তিশালী রূপ নিতে পারে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘের আবহাওয়া ও জলবায়ুবিষয়ক সংস্থা বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও)। সংস্থাটি বলছে, এর প্রভাবে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে চরম আবহাওয়ার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে।

শুক্রবার জেনেভা থেকে প্রকাশিত ডব্লিউএমওর মাসিক ‘গ্লোবাল সিজনাল ক্লাইমেট আপডেট’-এ এ তথ্য জানানো হয়।

ডব্লিউএমও জানিয়েছে, এল নিনো পরিস্থিতি ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে এবং আগামী কয়েক মাসে এটি আরও শক্তিশালী হবে। সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবিলায় দেশগুলোকে আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

এল নিনো হলো একটি প্রাকৃতিক জলবায়ুগত ঘটনা, যার ফলে নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্য ও পূর্বাঞ্চলের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। এর প্রভাবে বিশ্বজুড়ে বায়ুপ্রবাহ, বৃষ্টিপাত ও আবহাওয়ার ধরনে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা দেয়।

সাধারণত প্রতি দুই থেকে সাত বছর পরপর এল নিনো দেখা দেয় এবং এর স্থায়িত্ব থাকে প্রায় ৯ থেকে ১২ মাস। জলবায়ুর এই পরিবর্তন এল নিনো, লা নিনা ও নিরপেক্ষ অবস্থার মধ্যে পর্যায়ক্রমে ওঠানামা করে।

জাতিসংঘের সংস্থাটি এল নিনোকে দুর্বল, মাঝারি, শক্তিশালী ও অতি শক্তিশালী—এই চারটি শ্রেণিতে ভাগ করেছে। বর্তমান পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি পরিস্থিতি ‘শক্তিশালী’ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে, যা তৃতীয় সর্বোচ্চ স্তর।

ডব্লিউএমও জানায়, বিশ্বের প্রধান জলবায়ু কেন্দ্রগুলোর মডেলভিত্তিক পূর্বাভাসে দেখা যাচ্ছে, নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্য ও পূর্বাঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। কিছু অঞ্চলে মৌসুমভিত্তিক গড় তাপমাত্রার অস্বাভাবিকতা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি হতে পারে।

সংস্থাটি বলছে, বিভিন্ন পূর্বাভাস মডেলে উচ্চমাত্রার মিল থাকায় এ পূর্বাভাসের বিষয়ে আস্থা অনেক বেশি। উত্তর গোলার্ধের শরৎকালজুড়ে এল নিনো আরও শক্তিশালী হতে পারে এবং এর প্রভাব বিশ্বের বহু অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়বে।

এদিকে নিরক্ষীয় আটলান্টিক মহাসাগরীয় অঞ্চলের তাপমাত্রাও স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি থাকার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সর্বশেষ এল নিনো ২০২৩ সালকে রেকর্ডের দ্বিতীয় উষ্ণতম বছর এবং ২০২৪ সালকে ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণ বছর হওয়ার পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছিল। ২০২৪ সালে বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা শিল্পপূর্ব সময়ের তুলনায় প্রায় ১ দশমিক ৫৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল।

ডব্লিউএমওর মহাসচিব সেলেস্তে সাউলো বলেন, এল নিনো দ্রুত শক্তিশালী হলে অনেক অঞ্চলে খরা, অতিবৃষ্টি, স্থল ও সমুদ্রে তাপপ্রবাহের ঝুঁকি বেড়ে যাবে।

তিনি আরও বলেন, জীবন ও অর্থনীতিকে সুরক্ষিত রাখতে উন্নত মৌসুমি পূর্বাভাস এবং আগাম সতর্কবার্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে কৃষি ও স্বাস্থ্য খাতের মতো জলবায়ু-সংবেদনশীল খাতে প্রস্তুতি আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে সংস্থাটি।

এ বিভাগের আরও সংবাদ

spot_img

সর্বশেষ সংবাদ