মানিকগঞ্জে ষড়যন্ত্রমূলক ও মিথ্যা ধর্ষণচেষ্টা মামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন গ্রামবাসী। তাদের দাবি, পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষ হয়রানির উদ্দেশ্যে ধর্ষণচেষ্টার মামলা দায়ের করেছে। তারা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন, মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকালে সদর উপজেলার নারিকূলী গ্রামে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে এলাকার শতাধিক নারী-পুরুষ অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, রফিকুল ইসলাম (৫২) ও হযরত আলী (৫২) দীর্ঘদিনের বন্ধু ও প্রতিবেশী। পারস্পরিক সম্পর্কের সূত্রে তাদের মধ্যে আর্থিক লেনদেন ছিল। হযরত আলী রফিকুল ইসলামের কাছে কিছু টাকা পাওনা ছিলেন। ওই টাকা চাইতে গেলে উভয়ের মধ্যে কথাকাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এরপর থেকেই দুজনের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়।
বক্তাদের অভিযোগ, ওই বিরোধের জের ধরেই হযরত আলীর বিরুদ্ধে রফিকুলের স্ত্রী ধর্ষণচেষ্টার মামলা করেছে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাদের দাবি, মামলাটি দিয়ে হযরত আলীকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন ও হয়রানি করা হচ্ছে।
গ্রামবাসীর অভিযোগ, কোনো ধরনের প্রাথমিক তদন্ত বা তথ্য-যাচাই ছাড়াই পুলিশ মামলাটি গ্রহণ করেছে। তাদের দাবি, অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ স্থানীয় কোনো বাসিন্দা, প্রতিবেশী বা প্রত্যক্ষদর্শীর সঙ্গে কথা বলেনি। এমনকি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রকৃত পরিস্থিতিও যাচাই করা হয়নি। এতে একতরফাভাবে একটি মিথ্যা মামলার মাধ্যমে একজন নিরীহ ব্যক্তিকে হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা। মানববন্ধন থেকে মামলার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।
মানববন্ধনে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ শতাধিক নারী-পুরুষ উপস্থিত ছিলেন।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে মামলার বাদীপক্ষের দাবি, বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে আইনের আশ্রয় নিয়ে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে মানিকগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেনের জানিয়েছে, মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

