দেশজুড়ে তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় লোডশেডিং পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে দিনে ৮ থেকে ১৩ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকায় জনজীবনে চরম ভোগান্তি দেখা দিয়েছে এবং শিল্প উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
এপ্রিলের শুরু থেকেই লোডশেডিং নতুন মাত্রা পেয়েছে, যা মে-জুনে আরও খারাপ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত সোমবার সন্ধ্যায় বিদ্যুতের চাহিদা দাঁড়ায় প্রায় ১৫ হাজার ৩৩০ মেগাওয়াট, যার বিপরীতে ঘাটতি ছিল ১ হাজার ৩৫৮ মেগাওয়াট। একই দিনে সর্বোচ্চ লোডশেডিং পৌঁছায় ১ হাজার ৯৩২ মেগাওয়াটে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে এই ঘাটতি প্রায় ২ হাজার মেগাওয়াটের কাছাকাছি পৌঁছেছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত কয়েক দিনে দেশের তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে, যা বিদ্যুতের চাহিদা বাড়িয়ে দিয়েছে। ফ্যান, এসি ও সেচ পাম্পের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় চাপ পড়েছে জাতীয় গ্রিডে। কিন্তু উৎপাদন সেই অনুপাতে না বাড়ায় চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে বড় ব্যবধান তৈরি হয়েছে।
পিডিবির তথ্য অনুযায়ী, দেশে দৈনিক বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১৫ থেকে ১৬ হাজার মেগাওয়াট হলেও উৎপাদন হচ্ছে ১৩ থেকে ১৪ হাজার মেগাওয়াট। ফলে নিয়মিত ১ থেকে ২ হাজার মেগাওয়াট ঘাটতি থাকছে, যা পিক আওয়ারে আরও বাড়ছে।
অঞ্চলভেদে লোডশেডিংয়ের চিত্রেও রয়েছে বড় বৈষম্য। বরিশাল অঞ্চলে প্রতিদিন ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না, কোথাও কোথাও তা আরও বেশি। রাজশাহী ও খুলনা অঞ্চলেও ৮ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা দেখা যাচ্ছে। চট্টগ্রামের গ্রামীণ এলাকাগুলোতে দিনে ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা, কোথাও ১৬-১৭ ঘণ্টাও বিদ্যুৎ থাকে না।
ঢাকা শহরে লোডশেডিং তুলনামূলক কম, দৈনিক ১ থেকে ২ ঘণ্টা। তবে গ্রাম ও উপজেলা পর্যায়ে ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকে না। কুমিল্লা, ময়মনসিংহ, সিলেট ও রংপুরেও একই ধরনের পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
লোডশেডিংয়ের কারণে কৃষি, ক্ষুদ্র শিল্প ও ব্যবসা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। গাজীপুর শিল্পাঞ্চলে চাহিদার তুলনায় কম বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়ায় প্রতিদিন ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা লোডশেডিং করতে হচ্ছে। এতে গার্মেন্টস ও অন্যান্য কারখানায় উৎপাদন কমে যাচ্ছে। তাঁত শিল্পে উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে। সেচ পাম্প চালাতে না পারায় বোরো মৌসুমে কৃষকরাও বিপাকে পড়েছেন।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি (পিজিসিবি) সূত্র জানায়, দেশে মোট উৎপাদন সক্ষমতা ২৮ হাজার ৪৯৪ মেগাওয়াট হলেও জ্বালানি সংকটের কারণে চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না। ফলে গ্রীষ্ম মৌসুমে পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

