বুধবার

৬ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২৩শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জীবনরক্ষাকারী ভ্যাকসিনে ঘাটতি—এআরভি ও অ্যান্টিভেনম সরবরাহে জরুরি পদক্ষেপ প্রয়োজন

🕙 প্রকাশিত : ৬ মে, ২০২৬ । ৭:১১ পূর্বাহ্ণ

দেশের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার একটি মৌলিক দায়িত্ব হলো জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে এআরভি (জলাতঙ্ক প্রতিষেধক) ও অ্যান্টিভেনম (সর্পদংশন প্রতিষেধক) ভ্যাকসিনের ঘাটতি সেই দায়িত্ব পালনে বড় ধরনের ব্যর্থতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। বরিশাল বিভাগসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় এই সংকট যে মাত্রা ধারণ করেছে, তা উদ্বেগজনকই নয়—বরং বিপজ্জনক।

জলাতঙ্ক এমন একটি রোগ, যার লক্ষণ প্রকাশ পেলে প্রায় শতভাগ ক্ষেত্রে মৃত্যু অনিবার্য। অথচ সময়মতো টিকা গ্রহণ করলে এটি পুরোপুরি প্রতিরোধযোগ্য। একইভাবে সাপে কাটা রোগীর ক্ষেত্রে প্রথম এক ঘণ্টা, অর্থাৎ ‘গোল্ডেন আওয়ার’-এ অ্যান্টিভেনম প্রয়োগ করতে না পারলে মৃত্যুঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। এই বাস্তবতায় প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিনের দীর্ঘদিন অনুপস্থিতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

বর্তমান পরিস্থিতিতে দেখা যাচ্ছে, ভ্যাকসিনের অভাবে রোগীদের এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ছুটতে হচ্ছে। বিশেষ করে গ্রামীণ জনগোষ্ঠী সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী। অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসা পাওয়ার আগেই প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে, যা একেবারেই প্রতিরোধযোগ্য ছিল। এই চিত্র শুধু স্বাস্থ্য খাতের সীমাবদ্ধতা নয়, বরং সমন্বয়হীনতা ও পরিকল্পনার ঘাটতির প্রতিফলন।

সংকটের পেছনে যে কারণগুলো সামনে আসছে—কেন্দ্রীয় পর্যায়ে সরবরাহ ঘাটতি, প্রশাসনিক জটিলতা এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের অভাব—সেগুলো নতুন নয়। প্রশ্ন হচ্ছে, বছরের পর বছর একই সমস্যার পুনরাবৃত্তি কেন ঘটছে? প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিনের চাহিদা অনুমান ও সরবরাহ পরিকল্পনায় কেন এমন দুর্বলতা থেকে যাচ্ছে?

বিশেষ উদ্বেগের বিষয় হলো, সামনে বর্ষা মৌসুম। এ সময় গ্রামাঞ্চলে সাপের উপদ্রব বেড়ে যায়, ফলে সর্পদংশনের ঘটনাও বৃদ্ধি পায়। একই সঙ্গে প্রাণীর সংস্পর্শও বাড়ে, যা জলাতঙ্কের ঝুঁকি বাড়ায়। এই প্রেক্ষাপটে এখনই পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন মজুত নিশ্চিত না করা হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

অতএব, এই সংকট মোকাবিলায় অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। জরুরি ভিত্তিতে ভ্যাকসিন সরবরাহ নিশ্চিত করা, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কোল্ড-চেইন ব্যবস্থার উন্নয়ন, এবং সঠিকভাবে বিতরণ তদারকি করা জরুরি। পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়াতে হবে, যাতে মানুষ ঝাড়ফুঁক বা কুসংস্কারের পরিবর্তে দ্রুত চিকিৎসার আশ্রয় নেয়।

জনস্বাস্থ্য কোনো অবহেলার বিষয় নয়। একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগে কারও মৃত্যু শুধু ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি নয়, রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতারও প্রতিচ্ছবি। তাই আর বিলম্ব নয়—এখনই সমন্বিত, পরিকল্পিত এবং দৃশ্যমান উদ্যোগ নিতে হবে, যাতে এ ধরনের সংকট আর জনজীবনকে হুমকির মুখে না ফেলে।

এ বিভাগের আরও সংবাদ

spot_img

সর্বশেষ সংবাদ