২০২৬ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা আজ মঙ্গলবার সারা দেশে একযোগে শুরু হয়েছে। তবে গত বছরের তুলনায় এবার পরীক্ষার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
সাধারণ, কারিগরি ও মাদ্রাসাসহ ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এবার মোট ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ১৯ লাখ ২৮ হাজার ৯৭০ জন। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে পরীক্ষার্থী কমেছে ৭১ হাজার ৬২৬ জন, যা গত ছয় বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।
এবার সারা দেশের ৩০ হাজার ৬৬৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ৩ হাজার ৮৮৫টি কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। আজ বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষার মাধ্যমে পরীক্ষা শুরু হয়েছে, যা প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। তত্ত্বীয় পরীক্ষা শেষে ৭ থেকে ১৪ জুন পর্যন্ত ব্যবহারিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
পরীক্ষাকে নকলমুক্ত ও সুষ্ঠু করতে এবার নেওয়া হয়েছে কঠোর ব্যবস্থা। প্রতিটি পরীক্ষা কক্ষে বসানো হয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরা। এছাড়া ২০ ধরনের সম্ভাব্য অপরাধ চিহ্নিত করে তিন স্তরের শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। পরীক্ষার হলে অনিয়মের মাত্রা অনুযায়ী পরীক্ষা বাতিল, এক থেকে দুই বছর বহিষ্কারসহ আইনি ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।
শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, এবার নিবন্ধিত নিয়মিত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ১৮ লাখ ৯৫ হাজার ৩৯৯ জন। তবে তাদের মধ্যে প্রায় সাড়ে চার লাখ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে না, যা ঝরে পড়া বা পিছিয়ে পড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সোমবার আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, খাতা মূল্যায়ন সঠিকভাবে হচ্ছে কি না, তা মনিটরিং করা হবে। এ জন্য বিশেষ মনিটরিং সেল ও সমন্বয় ব্যবস্থাও চালু করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধে সাইবার নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, সরকার শিক্ষার্থীদের ‘পরীক্ষা ভীতি’ দূর করতে কাজ করছে এবং অভিভাবকদের অযথা উদ্বিগ্ন না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

