বুধবার

১৮ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৪ঠা চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সিংগাইরে ফসলি জমি ধ্বংসের মহাযজ্ঞ,খাল ভরাট করে চলছে মাটির কারবার

🕙 প্রকাশিত : ১৮ মার্চ, ২০২৬ । ১:৫৩ অপরাহ্ণ

মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলায় সরকারি দুটি খাল ভরাট করে ফসলি জমির মাটি কেটে ইটভাটায় নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট চক্রের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসনের কোনো অভিযানকে তোয়াক্কা না করে দীর্ঘদিন ধরে বেপরোয়াভাবে চালানো হচ্ছে এই অবৈধ কার্যক্রম। এমনকি রাত নামলেই দেশীয় অস্ত্রের মহড়া দিয়ে চলে মাটি কাটার কাজ।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, জামির্ত্তা ইউনিয়নের হাতিনী চকের হাতনী-ডিগ্রীচর সরকারি খালটি সম্পূর্ণ ভরাট করে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ওই পথ ব্যবহার করে পাশের চারটি ইটভাটায় ফসলি জমির মাটি সরবরাহ করা হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, ডিগ্রীচর গ্রামের দানেজ, ইউনুস, নাজিমুদ্দিন ও সুলতানসহ একটি সিন্ডিকেট চক্র এই অবৈধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। তারা প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বাজনাসুর মৌজার ফসলি জমি থেকে মাটি কেটে চারটি ইটভাটায় বিক্রি করছেন। সিন্ডিকেটের ভয়ে কেউ প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।
স্থানীয় জমির মালিক সিদ্দিক অভিযোগ করে বলেন, “প্রশাসন অন্য জায়গায় অভিযান চালালেও হাতিনী চকে ভিন্ন চিত্র। এখানে অবৈধভাবে ফসলি জমির মাটি কাটা হচ্ছে, সরকারি খাল ভরাট করা হয়েছে, কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।”
অভিযুক্তদের বক্তব্য নিতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও অধিকাংশকে পাওয়া যায়নি। তবে দানেজ মিয়া দাবি করেন, তিনি মাটির ব্যবসার সঙ্গে জড়িত নন।
অন্যদিকে, চান্দহর ইউনিয়নের রিফায়েতপুর চকে গিয়ে একই চিত্র দেখা গেছে। সেখানেও খাল ভরাট করে ফসলি জমির মাটি কেটে আরইপি ইটভাটায় নেওয়া হচ্ছে। স্থানীয়দের মতে, মাধবপুর গ্রামের ফজলু মন্ডল, আতাল মন্ডল ও জাহাঙ্গির মন্ডলসহ কয়েকজন এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত।
ভুক্তভোগী জমির মালিকরা জানান, আগে প্রশাসন অভিযান চালালেও কাউকে আটক করা যায়নি। তাদের দাবি, খাল ভরাটের রাস্তা কেটে দিলেই এই অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ করা সম্ভব।
অভিযুক্ত ফজলু মন্ডলের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার খায়রুন্নাহার বলেন, “ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এ বিভাগের আরও সংবাদ

spot_img

সর্বশেষ সংবাদ