সোমবার

১লা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৮ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ধূমপান ছাড়তে চান? জেনে নিন বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে ৪ কার্যকর উপায়

🕙 প্রকাশিত : ১ জুন, ২০২৬ । ৭:৩৪ পূর্বাহ্ণ

প্রতি বছর ৩১ মে পালিত হয় ‘বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস’। এবারের প্রতিপাদ্য— “প্রলোভনের মুখোশ উন্মোচন করি, তামাক ও নিকোটিনের আসক্তি প্রতিরোধ করি।” দিবসটি উপলক্ষে ধূমপান ছাড়ার কার্যকর কিছু উপায় নিয়ে পরামর্শ দিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

বিশ্বজুড়ে প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে ধূমপানকে বিবেচনা করা হয়। চিকিৎসকদের মতে, তামাকজাত পণ্যের ব্যবহার হৃদরোগ, স্ট্রোক, ফুসফুসের দীর্ঘমেয়াদি রোগ এবং বিভিন্ন ধরনের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়। পাশাপাশি উচ্চ রক্তচাপ ও রক্তনালিজনিত নানা জটিলতার সঙ্গেও ধূমপানের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ধূমপানের অভ্যাস ত্যাগ করতে হলে ধৈর্য ও পরিকল্পনা প্রয়োজন। একদিনে অভ্যাস ত্যাগ করা অনেকের জন্য কঠিন হতে পারে। তাই ধীরে ধীরে সিগারেটের পরিমাণ কমিয়ে আনার কৌশল তুলনামূলকভাবে বেশি কার্যকর।

১. চুইংগাম বা চকলেট রাখতে পারেন সঙ্গী

ধূমপানের তীব্র ইচ্ছা তৈরি হলে চুইংগাম চিবানো বা অল্প পরিমাণ চকলেট খাওয়া মনোযোগ অন্যদিকে সরিয়ে নিতে সাহায্য করে। এতে সিগারেটের প্রতি আকর্ষণ কিছুটা কমতে পারে।

২. ধূমপানের সঙ্গে সম্পর্কিত পানীয় কমান

অনেকের ক্ষেত্রে চা, কফি কিংবা অন্যান্য পানীয় গ্রহণের সময় ধূমপানের অভ্যাস তৈরি হয়। তাই এসব পানীয়ের পরিমাণ কমিয়ে দিলে বা বিকল্প বেছে নিলে ধূমপানের তাগিদও কমে আসতে পারে।

৩. মানসিক সহায়তা নিতে দ্বিধা নয়

ধূমপান ছাড়ার পথে মানসিক চাপ ও উদ্বেগ বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। এ ক্ষেত্রে কাউন্সেলিং, মনোবিদের পরামর্শ বা গ্রুপ সাপোর্ট কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। পরিবার ও বন্ধুদের সহযোগিতাও গুরুত্বপূর্ণ।

৪. প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন

নিকোটিনের আসক্তি বেশি হলে চিকিৎসকের পরামর্শে নিকোটিন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি কিংবা অন্যান্য ওষুধ ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে কোনো ওষুধই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ছাড়া গ্রহণ করা উচিত নয়।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ধূমপান ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর নিয়মিত শরীরচর্চা, পর্যাপ্ত পানি পান, পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ এবং নিজেকে ইতিবাচক কাজে ব্যস্ত রাখা সফল হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ায়। তারা সতর্ক করে বলেন, ধূমপান ছাড়ার পর আবার এই অভ্যাসে ফিরে গেলে স্বাস্থ্যঝুঁকি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। তাই দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ থাকতে দৃঢ় সংকল্প ও নিয়মিত সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই।

এ বিভাগের আরও সংবাদ

spot_img

সর্বশেষ সংবাদ