ঈদ মানেই আনন্দ, ঈদ মানেই মিলনমেলা। আর সেই আনন্দকে কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিতে মানিকগঞ্জের শিবালয়ে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ঐতিহ্যবাহী হাডুডু খেলা। রবিবার বিকালে উপজেলার জাফরগঞ্জ যমুনা নদীর পাড়ে জাফরগঞ্জ সোসাইটি কেয়ার সংগঠনের আয়োজনে প্রান্তিক কৃষকদের নিয়ে হাডুডু খেলায় অংশ নেয় স্থানীয় দুইটি গ্রামের হাডুডু,র দল।এসময় বিভিন্ন শ্রেনী পেশার নানা বয়সের সহস্রাধিক লোক এ খেলা উপভোগ করেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, মাঠের চারপাশে দর্শকদের উল্লাস, আর খেলায় মেতে উঠেছিলো প্রান্তিক কৃষকসহ নানা বয়সী মানুষ।। সারা বছর জমিতে ফসল ফলানো কৃষকরা এবার ঈদ পরবর্তী সময়ে ব্যস্ততার গণ্ডি পেরিয়ে নেমেছিলো খেলায়। হাডুডুর প্রতিটি আক্রমণ আর পাল্টা আক্রমণে জমে উঠে প্রতিযোগিতা। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বয়োজ্যেষ্ঠরাও উপভোগ করছেন গ্রামবাংলার এই চিরচেনা লোকজ খেলাটি। খেলা ঘিরে শুধু প্রতিযোগিতাই নয়, তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব আর গ্রামের মানুষ একসঙ্গে মিলিত হয়ে ভাগাভাগি করছেন ঈদের আনন্দ। ঈদের আনন্দকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলতে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী এই হাডুডু খেলা যেন হয়ে উঠেছে মিলনমেলার এক অনন্য উপলক্ষ। হারিয়ে যেতে বসা লোকজ সংস্কৃতি সংরক্ষণে এ অন্যান্য আয়োজন।
জাফরগঞ্জ সোসাইটি কেয়ার সোসাইটি কেয়ার এসোসিয়েশনের সভাপতি আবু নাইম জানান, একসময় গ্রামবাংলার অন্যতম জনপ্রিয় খেলা ছিল হাডুডু। আধুনিকতার ছোঁয়ায় অনেকটা হারিয়ে যেতে বসা সেই ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতেই এই আয়োজন। খেলায় যারা অংশ গ্রহন করেছে কেউ কৃষক কেউ দিন মজুর। ঈদ পরবর্তীতে আমাদের সংগঠনের মাধ্যমে এ খেলার আয়োজন করে তাদের মাধ্যমে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করি।
পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি সমাজকর্মী শাহিনুর রহমান বলেন, প্রান্তিক কৃষক ও খেটে খাওয়া লোকজনদের নিয়ে এ হাডুডু খেলার আয়োজন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ঈদের আনন্দের আরো নতুন মাত্র যোগ করে সবার মাঝে।
কয়েকজন দর্শক জানান, ঈদের আনন্দ আমাদের বাড়িয়ে দিয়েছে হাডুডু খেলা। মন ভরে সবাই উপভোগ করেছি। আবার সেই অতিতে কিছু সময়ের জন্য এই খেলার মাধ্যমে হারিয়ে গেছি।আমরা অন্তত বছরে একবার এ হাডুডু খেলায় অংশ গ্রহন করি। কিন্তু নতুন প্রজন্মের মাঝে এ খেলা বাঁচিয়ে রাখতে সরকারি বেসরকারি সংস্থা গুলোকে এগিয়ে আসতে হবে।

