বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহাম্মদ আবদুল্লাহ বলেছেন, সাংবাদিকদের অন্যতম বড় সমস্যা চিকিৎসা ব্যয়। বর্তমানে জটিল রোগে আক্রান্তদের সহায়তা দেওয়া হলেও তা নিয়মিত বা কাঠামোবদ্ধ নয়। ফলে একবার সহায়তা পাওয়ার পর দীর্ঘ সময় পর্যন্ত পুনরায় সহযোগিতার সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ে। এ বাস্তবতা বিবেচনায় সাংবাদিকদের জন্য একটি স্থায়ী স্বাস্থ্যসেবা কাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, ইতোমধ্যে বোর্ড সভায় সাংবাদিকদের জন্য ‘হেলথ কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহাম্মদ আবদুল্লাহ বলেছেন, সাংবাদিকদের অন্যতম বড় সমস্যা চিকিৎসা ব্যয়। বর্তমানে জটিল রোগে আক্রান্তদের সহায়তা দেওয়া হলেও তা নিয়মিত বা কাঠামোবদ্ধ নয়। ফলে একবার সহায়তা পাওয়ার পর দীর্ঘ সময় পর্যন্ত পুনরায় সহযোগিতার সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ে। এ বাস্তবতা বিবেচনায় সাংবাদিকদের জন্য একটি স্থায়ী স্বাস্থ্যসেবা কাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, ইতোমধ্যে বোর্ড সভায় সাংবাদিকদের জন্য ‘হেলথ কার্ড’ চালুর নীতিগত অনুমোদন মিলেছে। প্রথমে একটি পূর্ণাঙ্গ ডাটাবেজ তৈরির মাধ্যমে সাংবাদিকদের নিবন্ধন করা হবে। এরপর নিবন্ধনের ভিত্তিতে হেলথ কার্ড প্রদান করা হবে এবং ওই কার্ডের আওতায় ট্রাস্টের পক্ষ থেকে চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া হবে। প্রাথমিকভাবে ঢাকায় এ কার্যক্রম শুরু করে পর্যায়ক্রমে বিভাগীয় ও জেলা শহরে বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকদের দলীয় লেজুড়বৃত্তি পরিহার করে প্রকৃত সাংবাদিকতায় মনোযোগী হতে হবে। সাংবাদিকদের মানোন্নয়নে ফেলোশিপ চালুরও পরিকল্পনা রয়েছে ট্রাস্টের। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ডাটাবেজ তৈরির কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।
শনিবার সকালে খুলনা প্রেসক্লাব- এর হুমায়ুন কবীর বালু মিলনায়তনে ট্রাস্টের সহযোগিতায় ও মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন খুলনা’র ব্যবস্থাপনায় খুলনা-সাতক্ষীরা অঞ্চলের সাংবাদিকদের আর্থিক সহায়তা ও মেধাবী সন্তানদের শিক্ষাবৃত্তির চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন খুলনার সভাপতি মো. রাশিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক রানার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা জেলার সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. আসাদুজ্জামান আরিফ, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে)-এর সহকারী মহাসচিব এহতেশামুল হক শাওন এবং খুলনা প্রেসক্লাবের সদস্য সচিব রফিউল ইসলাম টুটুল। অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন ইউনিয়নের সহ-সভাপতি মো. নূরুজ্জামান, সহ-সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম নূর,কোষাধ্যক্ষ মো. রকিবুল ইসলাম মতি, নির্বাহী সদস্য মো. এরশাদ আলী, কে এম জিয়াউস সাদাত, সাবেক সাধারণ সম্পাদক এইচ এম আলাউদ্দিন, সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসান হিমালয়, সিনিয়র সদস্য মুনীর উদ্দিন আহমেদ, আহমদ মুসা রঞ্জু প্রমুখ।
মুহাম্মদ আবদুল্লাহ বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সাংবাদিকবান্ধব ছিলেন এবং তার সেই ধারাবাহিকতা রক্ষা করেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও সাংবাদিকদের অবাধ স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি আরও বলেন, মাস শেষে অনেক সাংবাদিক নিয়মিত বেতন পান না। কিন্তু নতুন মাস শুরু হলেই স্কুল, মাদরাসা ও কলেজের টিউশন ফি পরিশোধ করতে হয়। এই বাস্তবতায় তারা নিয়মিত সমস্যার সম্মুখীন হন। সেই বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ২০১৫ সাল থেকে সাংবাদিকদের মেধাবী সন্তানদের জন্য বৃত্তি কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। গত ১৮ মাসের দায়িত্বকালকে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের হাতে বৃত্তির চেক তুলে দেওয়ার মুহূর্তটিই তার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। এবার খুলনা ও সাতক্ষীরা জেলার জন্য প্রায় ৯ লাখ টাকার চেক বিতরণ করা হয় বলেও জানান তিনি। চিকিৎসা সহায়তা কার্যক্রমকে আরও টেকসই করতে সাংবাদিকদের জন্য হেলথ কার্ড চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নিবন্ধনের ভিত্তিতে কার্ড প্রদান করা হবে এবং সেই কার্ডের আওতায় ট্রাস্টের পক্ষ থেকে নিয়মিত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

