মানিকগঞ্জে পূর্ববিরোধের জেরে ইজিবাইক থামিয়ে চালক তোতা মিয়াকে (৪২) লোহার রড, হাতুড়ি ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় তার ডান হাতের হাড় ভেঙে গেছে এবং মাথায় আঘাত করে রক্তাক্ত করে। হামলাকারীরা একটি মোবাইল ফোন নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি ইজিবাইকটি ভাঙচুর করে প্রায় ১ লক্ষ টাকার ক্ষতি করেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
বুধবার (০২) সেপ্টেম্বর ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে এমন তথ্য জানা যায়। বিষয়টি নিয়ে ভুক্তভোগীরা প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
গত,রোববার (৩০ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার কেওয়ারজানি এলাকায় মো. আবুল হাসেমের বাড়ির গেটের সামনে ইটের সলিং রাস্তায় এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্তরা হলেন, কেওয়ারজানি এলাকার মো. হাসান (৩০), মো. আলামিন (২৫), হাসনা খাতুন (৫০) ও মো. জিতু (২৩), অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, তোতা মিয়া পেশায় ইজিবাইক চালক। অভিযুক্তরা এলাকায় মাদক বিক্রিসহ বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত বলে অভিযোগ করেন তোতার স্ত্রী মোছা. বিলকিস আক্তার (২০)। এসব কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করায় আগে থেকেই তোতা মিয়াকে মারধর ও হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছিলো বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার দিন দুপুরে তোতা মিয়া ইজিবাইক নিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে যাওয়ার সময় কেওয়ারজানি এলাকায় পৌঁছালে হাসান, আলামিন, হাসনা ও জিতুসহ কয়েকজন তার ইজিবাইকের গতিরোধ করেন। পরে তাকে জোর করে ইজিবাইক থেকে নামিয়ে চারদিক থেকে ঘিরে মারধর করা হয়।
অভিযোগে বলা হয়েছে, আলামিনের নির্দেশে হাসান লোহার রড দিয়ে তোতা মিয়ার মাথায় আঘাত করতে গেলে তিনি ডান হাত দিয়ে তা প্রতিহত করার চেষ্টা করেন। এতে তার ডান বাহুতে গুরুতর আঘাত লাগে এবং হাড় ভেঙে যায়। পরে আলামিন লোহার হাতুড়ি দিয়ে তার মাথা ও ডান বাহুতে আঘাত করেন। জিতু বাঁশের লাঠি দিয়ে দুই পা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে এবং হাসনা খাতুনও তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। এ সময় অজ্ঞাতনামা কয়েকজন তার বুক ও পেটে আঘাত করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
একপর্যায়ে আলামিন তোতা মিয়ার কাছ থেকে নগদ ২৭ হাজার টাকা এবং হাসান ২৩ হাজার টাকা মূল্যের একটি টাচ মোবাইল ফোন নিয়ে যান বলে অভিযোগ করেন বিলকিস আক্তার। পরে সবাই মিলে ইজিবাইকটি ভাঙচুর করে প্রায় ৬৫ হাজার টাকার ক্ষতি করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
তোতা মিয়ার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা তাকে আবারও খুন ও জখমের হুমকি দিয়ে চলে যান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে খবর পেয়ে বিলকিস আক্তার ও তার পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় গুরুতর আহত তোতা মিয়াকে উদ্ধার করে মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। বর্তমানে সেখানে তার চিকিৎসা চলছে এবং তার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় বিলকিস আক্তার মানিকগঞ্জ থানায় হাসান, আলামিন, হাসনা খাতুন, জিতুসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
বিলকিস আক্তার এ ঘটনায় প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
তোতার বড় ভাই আব্দুল কাদের বলেন, রাত দুইটার সময় চোর সন্দেহে মেম্বার ডেকে সালিশ করার কারণে আমার ভাই এর উপর হামলা করা হয়েছে।
এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোঃ জুলুস খান পাঠান বলেন, এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

