জামিনে মুক্ত সাংবাদিক পীর ইয়াকুব, ফিরলেন স্বজনদের কাছে

🕙 প্রকাশিত : ১৮ আগস্ট, ২০২৬ । ২:২৫ পিএম

অবশেষে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন দৈনিক নিরপেক্ষ ও জাতীয় নিউজ পোর্টাল একুশে সংবাদের মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলা প্রতিনিধি এবং সাহরাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের খণ্ডকালীন আইসিটি শিক্ষক পীর ইয়াকুব হোসেন মোল্লা (২৯)। তিনি সিংগাইর প্রেসক্লাবের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ও উপজেলা সায়েস্তা ইউনিয়নের টান গোপাল নগর গ্রামের মৃত হায়দার দেওয়ানের ছেলে।

আজ মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে মানিকগঞ্জ জেলা কারাগার থেকে বের হয়ে আসেন তিনি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তাঁর বোন জিয়াসমিন আক্তার।
এর আগে দুপুরে মানিকগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতে শুনানি শেষে তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন বিচারক এসকে এম তোফায়েল হাসান। পীর ইয়াকুব হোসেন মোল্লার আইনজীবী অ্যাডভোকেট কুলসুম আক্তার ইতি বিষয়টি নিশ্চিত করেন। জামিন শুনানিতে পীর ইয়াকুবের পক্ষে আরও অংশ নেন- অ্যাডভোকেট মো. জসিমউদ্দীন আহমেদ, অ্যাডভোকেট মেজবাহ উল হক মেসবাহ, অ্যাডভোকেট মেহেদী হাসান, অ্যাডভোকেট মসিউর রহমান শামীম ও অ্যাডভোকেট শেখ আসাদ শাহ প্রামাণিক।
অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) এ. এফ. এম. নূরতাজ আলম বাহার।
একই দিনে মামলার ৪ নম্বর আসামি সুজন ও ৫ নম্বর আসামি রাসেলও জামিন পেয়েছেন। এর আগে গত ২ আগস্ট মামলার ১৩ নম্বর আসামি সাহরাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম জেলা ও দায়রা জজ আদালত থেকে জামিন পান। এছাড়া মামলার ১ নম্বর আসামি আলিফ হোসেন (১৬) হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়েছেন।
কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে সাংবাদিক ও শিক্ষক পীর ইয়াকুব হোসেন মোল্লা বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে হত্যার নির্দেশ দেওয়ার যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা।
তিনি বলেন, “শিক্ষক হিসেবে সন্তানতুল্য একজন ছাত্রীকে হত্যার মতো অভিযোগ আমার হৃদয়কে ভেঙে দিয়েছে। একজন শিক্ষক হিসেবে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশক্রমে আমি শুধু আমার দায়িত্ব পালন করেছি মাত্র ।”
পীর ইয়াকুব তিনি প্রশাসনের কাছে নিহত মারিয়া মাহি হত্যাকাণ্ডের সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। প্রকৃত সত্য উদঘাটনের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠারও আহ্বান জানান তিনি।

মামলার এজাহার ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য অনুযায়ী, সাহরাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী নিহত মাহিয়া মাহি ও দশম শ্রেণির ছাত্র আলিফের মধ্যে প্রেমের সম্পর্কের বিষয়টি স্কুলের সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজে ধরা পড়ে। পরে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দুজনকে টিসি দেয়।
এরপর থেকে মাহিয়া মাহি নিখোঁজ হন। গত ২১ জুন বিকেলে পার্শ্ববর্তী জামির্ত্তা ইউনিয়নের চন্দননগর কবরস্থানের পাশের একটি বাগান থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় নিহতের মা কামরুন্নাহার বাদী হয়ে সাহরাইল উচ্চ বিদ্যালয়ের তিন শিক্ষকসহ ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ৪-৫ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার পর পুলিশ প্রধান শিক্ষক, আইসিটি শিক্ষকসহ আটজনকে গ্রেপ্তার করে।
পীর ইয়াকুব হোসেন মোল্লা জামিনে মুক্ত হয়ে পরিবারের কাছে ফিরলেও মাহিয়া মাহির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত—তা নিয়ে তদন্তের বিষয়টি এখনও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে আছে।

নিহতের পরিবার যেমন সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের প্রত্যাশায় রয়েছে, তেমনি জামিনে মুক্ত পীর ইয়াকুব হোসেন মোল্লার দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য সামনে আসুক।

এ বিভাগের আরও সংবাদ

spot_img

সর্বশেষ সংবাদ