ইরানি হামলার আশঙ্কায় তুরস্কে গোপনে বিমান বদল করেন ট্রাম্প

🕙 প্রকাশিত : ১৩ আগস্ট, ২০২৬ । ৬:৫৭ এএম

তুরস্ক সফর শেষে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গোপনে বিমান পরিবর্তন করা হয়েছিল। তবে পরে ওই নিরাপত্তা সতর্কতার তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে মার্কিন গোয়েন্দা মহলে প্রশ্ন ওঠে।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) ওয়াশিংটন পোস্ট, এনপিআর ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের তথ্যের বরাত দিয়ে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত মাসে তুরস্কে অনুষ্ঠিত ন্যাটো সম্মেলন শেষে ট্রাম্পের এয়ার ফোর্স ওয়ানে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সম্ভাবনা রয়েছে—এমন একটি সতর্কবার্তা মার্কিন সিক্রেট সার্ভিসের কাছে পৌঁছায়। এই তথ্যের উৎস ছিল ইসরায়েল।

সতর্কবার্তার পর নিরাপত্তার সর্বোচ্চ গুরুত্ব বিবেচনায় সিক্রেট সার্ভিস ট্রাম্পকে গোপনে একটি খাবার পরিবহন ট্রাকের (ক্যাটারিং ট্রলি) মাধ্যমে সরিয়ে ছোট একটি সামরিক বিমানে তুলে দেয়। একই সময়ে সাংবাদিক ও অন্য কর্মকর্তারা ধারণা করেছিলেন, ট্রাম্প আগের বিমানেই রয়েছেন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (সিআইএ) ওই হুমকির তথ্য স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি। মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের একাংশের মতে, এটি ছিল একক উৎসভিত্তিক তথ্য, যার পক্ষে অন্য কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাদের ধারণা, এই সতর্কবার্তা ট্রাম্পকে সম্ভাব্য হুমকির বিষয়ে অবহিত করার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণে প্রভাব ফেলতেও ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে।

এদিকে তুরস্কের নিরাপত্তা সংস্থাও বিষয়টি তদন্ত করে আঙ্কারায় ট্রাম্পকে হত্যার কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার প্রমাণ পায়নি।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ট্রাম্পকে গোপনে অন্য বিমানে সরিয়ে নেওয়া হলেও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট আগের এয়ার ফোর্স ওয়ানেই ছিলেন। রুবিও বিমান পরিবর্তনের বিষয়টি জানতেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হলেও তিনি কেন আগের বিমানেই থেকে গিয়েছিলেন, সে বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে যাচাই না হওয়া গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নিরাপত্তা সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং এতে বিদেশি গোয়েন্দা তথ্যের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

এ বিভাগের আরও সংবাদ

spot_img

সর্বশেষ সংবাদ