জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় দীর্ঘস্থায়ী লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। দিনে ও রাতে মিলিয়ে অনেক এলাকায় মাত্র চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। এ পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বিদ্যুৎ অফিস ও উপকেন্দ্রের নিরাপত্তা জোরদারের জন্য প্রশাসনের কাছে আবেদন জানিয়েছে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ।
পল্লী বিদ্যুৎ সূত্রে জানা গেছে, মাদারগঞ্জে বিদ্যুতের চাহিদার তুলনায় মাত্র এক-তৃতীয়াংশ সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে। এ কারণে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না।
মাদারগঞ্জ জোনাল অফিস ও কয়ড়া সাব-জোনাল অফিসের আওতায় উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন ও পৌর এলাকায় প্রায় এক লাখ গ্রাহক বিদ্যুৎ সেবা গ্রহণ করছেন।
উপজেলের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, প্রতিদিন গড়ে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ থাকছে না। এতে ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, চিকিৎসাসেবা, অফিস কার্যক্রম এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
সিধুলী ইউনিয়নের বাসিন্দা আমিনুল ইসলাম বলেন, বিদ্যুতের ঘাটতিতে মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে। প্রচণ্ড গরমে শিশু ও বয়স্করা নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন।
পৌর এলাকার বাসিন্দা আবুল হাসান জানান, দিনে মাত্র চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকায় গরমে স্বাভাবিক জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়েছে।
মাদারগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) সৈয়দা ফারজানা ইয়াসমিন বলেন, উপজেলায় বিদ্যুতের চাহিদা ২১ মেগাওয়াট, কিন্তু বর্তমানে মাত্র ৭ মেগাওয়াট সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে। ফলে গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না।
তিনি আরও জানান, বিদ্যুৎ অফিস ও উপকেন্দ্রগুলোতে সম্ভাব্য নাশকতা বা অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে জামালপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজারের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং মাদারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে নিরাপত্তা চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

