মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থীর পরিচিতি সভায় হামলা, মারধর ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন চেয়ারম্যান প্রার্থী অহিদুল ইসলামের ভাই মো. নাহিদ মিয়া (২৮)।
শনিবার (৮ আগষ্ট ) বিকেলে হরিরামপুর থানায় দেওয়া অভিযোগে উল্লেখ করেন, উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের মানিকনগর পূর্বপাড়া এলাকার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের একটি মসজিদের পাশে তার ভাইয়ের চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে পরিচিতি সভার আয়োজন করা হয়। সভায় তাঁর বড় ভাই অহিদুল ইসলাম ২০২৬ সালের রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে জনসংযোগের আয়োজন করেন। সভা শুরুর আগে আগত লোকজনের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। পরে নামাজ আদায়ের জন্য আয়োজকসহ কয়েকজন মসজিদে প্রবেশ করেন। নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় আগে থেকে অবস্থান করা ওবায়দুল মোল্লাসহ কয়েকজন তাঁদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগকারীর দাবি, হামলার একপর্যায়ে তাঁর স্বজন মীর আলমগীরকে বাঁশের লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়। এতে তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফুলা জখম হয় এবং মাথায় আঘাত লাগে। মারধরের সময় মীর আলমগীরের কাছ থেকে প্রায় ১২ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়ারও অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ছাড়া হামলাকারীরা সভাস্থলে থাকা প্রায় ২৫০টি চেয়ার ভাঙচুর করেন এবং সভায় আগত লোকজনকে ভয়ভীতি ও হুমকি দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহত মীর আলমগীরকে হরিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
অভিযোগে নাহিদ মিয়া আরও দাবি করেন, অভিযুক্তরা এলাকায় বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে আসছেন এবং ভবিষ্যতে তাঁরা ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের ক্ষতি করতে পারেন। এ ঘটনায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করে হরিরামপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন তিনি।
অভিযোগে মো. করিব হোসেন (৩৬), ওবায়দুল (৪৬), লিটন (৪০), শফিকুল (২৮), আজিম (৩০) ও আলমগীর (৪০)-সহ কয়েকজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
হরিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আফজাল হোসেন জানান, এমন কোনো অভিযোগ তার কাছে এখনো আসে নাই। তবে তিনি ঘটনার বিষয়ে অবগত আছেন এবং যদি অভিযোগ দিয়ে থাকে তাহলে জিডি হিসেবে নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নিবেন।

