মানিকগঞ্জের দৌলতপুরে অবৈধ ড্রেজার ব্যবসা সচল রাখতে গিয়ে নিজেই ফেঁসে যান উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব আব্দুস সালাম। পরবর্তীতে সেই রাজনৈতিক ও আইনি চাপ থেকে নিজেকে এবং সহযোগীকে বাঁচাতে আপন ভাগ্নেকে জড়িয়ে নতুন করে অভিযোগ দায়ের করানোর অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। এই ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন ও সর্বসাধারণের মাঝে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১ জুলাই চকমিরপুর ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর কালিকা বাড়ি গ্রামের খোদেজা বেগম নামের এক নারী অবৈধ ড্রেজার চালানোর অভিযোগে উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব আব্দুস সালাম, চকমিরপুর ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নান্নু মিয়া এবং রনি নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিয়ান নুরেন-এর নিকট একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগের বিষয়টি স্থানীয় সংবাদকর্মীদের মাধ্যমে গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে তীব্র রাজনৈতিক ও সামাজিক চাপের মুখে পড়েন যুবদল নেতা সালাম ও নান্নু।
ভুক্তভোগীকে চাপ দিয়ে নতুন অভিযোগ!
অভিযোগ রয়েছে, এই পরিস্থিতি থেকে নিজেদের রক্ষা করতে যুবদল নেতা সালাম ও নান্নু তৎপরতা শুরু করেন। তারা মূল অভিযোগকারী খোদেজা বেগমকে পুনরায় ডেকে এনে কৌশলে আগের অভিযোগ থেকে সালাম ও নান্নুর নাম বাদ দেওয়ান। পরিবর্তে সালামের আপন বোনের ছেলে (ভাগ্নে) রনি এবং লিটন নামের আরেকজনের নাম অন্তর্ভুক্ত করে নতুন একটি অভিযোগ দায়ের করান। দুটি অভিযোগ উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তার কার্যালয় রয়েছে।
শুধু তাই নয়, নিজের অপকর্মের সম্পৃক্ততা আড়াল করতে ‘ক্রাইম টিভি ৭২’ নামের একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে আপন ভাগ্নে রনির বিরুদ্ধে ভিডিও সাক্ষাৎকারও প্রচার করান তিনি।
স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভ
একজন দায়িত্বশীল রাজনৈতিক নেতা হয়ে নিজের পিঠ বাঁচাতে এভাবে আপন ভাগ্নেকে বলির পাঁঠা বানানোর বিষয়টি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না স্থানীয়রা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও স্থানীয় চায়ের দোকানে এখন একটাই আলোচনা—”নিজের অপরাধ ঢাকতে মামা কীভাবে আপন ভাগ্নেকে ফাঁসিয়ে দিলেন?”
এ বিষয়ে সাধারণ মানুষ ও তৃণমূলের রাজনৈতিক কর্মীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এবিষয়ে যুবদল নেতা ছালামের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মুঠোফোন বন্ধ থাকায় কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

