জন্ম থেকেই একক ডিজিটাল পরিচয়, একই আইডিতে মিলবে সব সরকারি সেবা

🕙 প্রকাশিত : ২ জুলাই, ২০২৬ । ৫:৫৫ এএম

দেশে চালু হতে যাচ্ছে নাগরিকদের জন্য একক ডিজিটাল পরিচয়ব্যবস্থা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, জন্মের পরই প্রতিটি শিশুর জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে তৈরি হবে একটি ইউনিফায়েড ডিজিটাল আইডি, যার মাধ্যমে জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত স্বাস্থ্য, শিক্ষা, জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট, ভূমিসেবাসহ বিভিন্ন সরকারি সেবা পাওয়া যাবে একই প্ল্যাটফর্মে।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান ডিজিটাল আইডি, ওয়ান ওয়ালেট’ উদ্যোগের আওতায় এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রস্তুতি চলছে। প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদের ভাবনায় এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, জন্ম নিবন্ধন, জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), পাসপোর্ট, স্বাস্থ্য তথ্য, শিক্ষা, ভূমি সেবা ও বিআরটিএসহ বিভিন্ন সরকারি ডাটাবেজকে একটি সমন্বিত প্ল্যাটফর্মে আনা হবে। ফলে একজন নাগরিক একটি মাত্র ডিজিটাল আইডির মাধ্যমেই সব ধরনের সরকারি সেবা গ্রহণ করতে পারবেন।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রকল্পটি বর্তমানে ধারণাপত্র বা কনসেপ্ট পেপার পর্যায়ে রয়েছে। অনুমোদনের পর আনুষ্ঠানিক বাস্তবায়ন কার্যক্রম শুরু হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, হাসপাতালে কোনো শিশুর জন্ম হলে তার তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে জন্ম নিবন্ধন ব্যবস্থায় যুক্ত হবে এবং বাবা-মায়ের জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যের সঙ্গে সমন্বয় করে নবজাতকের জন্য একটি স্থায়ী ডিজিটাল আইডি তৈরি করা হবে। বাসায় জন্ম নেওয়া শিশুর ক্ষেত্রেও পৃথক ব্যবস্থা রাখা হবে।

এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে প্রতিটি নাগরিকের জন্য স্মার্টফোনভিত্তিক একটি ডিজিটাল ওয়ালেট তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে। এতে পরিচয়পত্র, প্রয়োজনীয় ডিজিটাল ক্রেডেনশিয়াল এবং সরকারি নথি সংরক্ষিত থাকবে। সরকারি বিভিন্ন সেবায় লগইন, পরিচয় যাচাই এবং প্রয়োজন হলে এটি ফিজিক্যাল পরিচয়পত্রের বিকল্প হিসেবেও ব্যবহার করা যাবে।

তবে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সব তথ্য এক প্ল্যাটফর্মে থাকলেও নাগরিকের সম্মতি ছাড়া কোনো ব্যক্তিগত তথ্য অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে শেয়ার করা হবে না। ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা আইন ও জাতীয় ডেটা গভর্নেন্স নীতিমালা অনুসরণ করেই পুরো ব্যবস্থা পরিচালিত হবে।

বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় পরিচালিত ‘ডি-স্টার’ (ডিজিটাল সার্ভিস ট্রান্সফরমেশন ফর অ্যাক্সেস অ্যান্ড রিজিলিয়্যান্স) প্রকল্পের আওতায় এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, এস্তোনিয়া ও সিঙ্গাপুরের ইউনিফায়েড ডিজিটাল আইডেন্টিটি মডেল পর্যালোচনা করে বাংলাদেশের জন্য উপযোগী কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে।

সম্প্রতি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ জানিয়েছেন, আগামী মাস থেকেই দেশের প্রথম ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার (ডিপিআই) প্রতিষ্ঠার কাজ শুরু হবে। এর আওতায় গড়ে তোলা হবে ‘এক নাগরিক, এক ডিজিটাল আইডি, এক ডিজিটাল ওয়ালেট’ কাঠামো। এটি বাস্তবায়িত হলে নাগরিকরা একটি একক ডিজিটাল পরিচয়ের মাধ্যমে দ্রুত, সহজ ও হয়রানিমুক্তভাবে সরকারি সেবা গ্রহণ করতে পারবেন।

এ বিভাগের আরও সংবাদ

spot_img

সর্বশেষ সংবাদ