সোমবার

১লা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৮ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে কঠোর অবস্থান সরকারের, অপ্রাপ্তবয়স্কদের কাছে বিক্রি নিষিদ্ধ

🕙 প্রকাশিত : ১ জুন, ২০২৬ । ৫:৪৩ পূর্বাহ্ণ

তামাক ও নিকোটিনজাত পণ্যের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে সরকার আরও কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ১৮ বছরের কম বয়সীদের কাছে তামাক ও নিকোটিন পণ্য বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি পাবলিক প্লেস ও গণপরিবহনে ধূমপান এবং ধোঁয়াবিহীন তামাক সেবনও নিষিদ্ধ রয়েছে।

রোববার (৩১ মে) বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস ২০২৬ উপলক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, এবারের প্রতিপাদ্য— “প্রলোভনের মুখোশ উন্মোচন করি, তামাক ও নিকোটিনের আসক্তি প্রতিরোধ করি”— বর্তমান সময়ের বাস্তবতায় অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তামাকে থাকা নিকোটিন মানুষের মধ্যে মারাত্মক আসক্তি তৈরি করে এবং বিড়ি, সিগারেট, ই-সিগারেট, জর্দা ও গুলসহ বিভিন্ন তামাকজাত পণ্য হৃদরোগ, স্ট্রোক, ক্যান্সার ও ফুসফুসের দীর্ঘমেয়াদি রোগের অন্যতম কারণ।

প্রধানমন্ত্রী জানান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে মোট মৃত্যুর প্রায় ৭১ শতাংশই অসংক্রামক রোগের কারণে ঘটে, যার অন্যতম ঝুঁকির কারণ তামাক ও নিকোটিনের ব্যবহার। টোব্যাকো এটলাস ২০২৫-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রতি বছর তামাকজনিত রোগে ১ লাখ ৯৯ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের গবেষণায় দেখা গেছে, স্বাস্থ্যব্যয়, পরিবেশগত ক্ষতি এবং উৎপাদনশীলতা হ্রাসসহ তামাক ব্যবহারের কারণে দেশের অর্থনীতিতে বছরে ৮৭ হাজার কোটি টাকারও বেশি ক্ষতি হচ্ছে।

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ২০০৩ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন টোব্যাকো কন্ট্রোল (এফসিটিসি)-এ স্বাক্ষর করে, ২০০৪ সালে তা অনুসমর্থন করে এবং ২০০৫ সালে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন প্রণয়ন করে। পরবর্তীতে আইনকে আরও কার্যকর করতে বিভিন্ন সংশোধনী আনা হয়েছে।

তিনি জানান, শিশু-কিশোরদের তামাকের প্রলোভন থেকে দূরে রাখতে তামাকজাত পণ্যের সব ধরনের বিজ্ঞাপন, প্রচারণা ও প্রমোশন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া, ইন্টারনেট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অ্যাপস, ওটিটি প্ল্যাটফর্ম, নাটক-সিনেমাসহ সব মাধ্যমে তামাকের প্রচারণা বন্ধ করা হয়েছে। এমনকি করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার (সিএসআর) আড়ালেও তামাক কোম্পানির প্রচার কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

এ ছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, ক্লিনিক, খেলাধুলার মাঠ ও শিশু পার্কের ১০০ মিটারের মধ্যে তামাক বিক্রি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে শাস্তি ও জরিমানার পরিমাণও বৃদ্ধি করা হয়েছে।

পোস্টের শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, নতুন বিধিবিধানের কার্যকর বাস্তবায়ন এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে তামাক নিয়ন্ত্রণ এখন সময়ের দাবি। জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সরকারের সমন্বিত উদ্যোগে একটি সুস্থ, কর্মক্ষম ও তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

এ বিভাগের আরও সংবাদ

spot_img

সর্বশেষ সংবাদ