সাহিত্য

অন্যায়ের বিরুদ্ধে সাহিত্যের উচ্চারণ—আলোচনায় রাহিতুল ইসলামের ‘বাদলের কারাবাস’

সংগৃহীত

বর্তমান সাহিত্য অঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে লেখক রাহিতুল ইসলামের নতুন উপন্যাস ‘বাদলের কারাবাস’। একজন নিরপরাধ মানুষের দীর্ঘ কারাজীবন এবং বিচারিক জটিলতায় পিষ্ট হওয়ার মর্মান্তিক বাস্তবতা নিয়ে রচিত এই বইটি পাঠকমহলে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

উপন্যাসটি বাদল ফরাজী নামের এক যুবকের জীবনের ছায়া অবলম্বনে লেখা। ২০০৮ সালে দিল্লিতে এক বৃদ্ধাকে হত্যার অভিযোগে নামের মিলের কারণে তাকে গ্রেপ্তার করে ভারতীয় পুলিশ। নির্দোষ হওয়া সত্ত্বেও টানা ১০ বছর তিহার কারাগারে বন্দি থাকতে হয় তাকে। ২০১৮ সালে বন্দি বিনিময় চুক্তির আওতায় দেশে ফেরার পরও আইনি জটিলতায় তাকে বাংলাদেশে কারাবন্দি জীবন কাটাতে হচ্ছে।

এই করুণ বাস্তবতাকে লেখক রাহিতুল ইসলাম গভীর মানবিক বোধ দিয়ে তুলে ধরেছেন। উপন্যাসে দেখানো হয়েছে, কেবল একটি নামের বিভ্রান্তি কীভাবে একটি তরুণের জীবন ও স্বপ্নকে ধ্বংস করে দিতে পারে। তিহার জেলের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে টিকে থাকার সংগ্রামের পাশাপাশি তার পরিবারের দীর্ঘ আইনি লড়াই এবং অসহায় প্রতীক্ষার বেদনাও উঠে এসেছে মর্মস্পর্শীভাবে।

সমালোচকদের মতে, ‘বাদলের কারাবাস’ কেবল একটি সাহিত্যকর্ম নয়, বরং এটি সমাজের বিদ্যমান বিচারহীনতা ও প্রশাসনিক ত্রুটির বিরুদ্ধে এক শক্ত প্রতিবাদ। বইটি বিচারব্যবস্থার দীর্ঘসূত্রতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে পাঠকদের।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বইটি নিয়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা। অনেকেই উপন্যাসের বিভিন্ন অংশ উদ্ধৃত করে বাদল ফরাজীর মুক্তি ও ন্যায়বিচারের দাবি তুলছেন। এক পাঠক মন্তব্য করেন, “বাদল ফরাজী কোনো কাল্পনিক চরিত্র নয়, তিনি আমাদের সমাজের এক নির্মম বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি।”

লেখক রাহিতুল ইসলাম বলেন, “আমি চেয়েছি বাদল ফরাজীর জীবনের সত্য মানুষের সামনে তুলে ধরতে। সাহিত্যে যদি এই হাহাকার না আসে, তবে সেই সাহিত্যের সার্থকতা কোথায়?” তিনি আরও জানান, বাদলের দ্রুত মুক্তিই তার এই লেখার প্রধান অনুপ্রেরণা।

সত্য ঘটনা অবলম্বনে জীবনঘনিষ্ঠ সাহিত্যপ্রেমীদের জন্য ‘বাদলের কারাবাস’ একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এ বিভাগের আরও সংবাদ