ক্রিকেটের মাঠ থেকে অপরাধ জগতে, যশোরে গ্রেপ্তার চট্টগ্রামের ‘ডেভিড ইমন’

🕙 প্রকাশিত : ৩০ জুলাই, ২০২৬ । ৬:৫৬ এএম

চট্টগ্রামের ক্রিকেটাঙ্গনে সম্ভাবনাময় বাঁহাতি ‘চায়নাম্যান’ স্পিনার হিসেবে পরিচিত মোবারক হোসেন ইমন একসময় জাতীয় দলে খেলার স্বপ্ন দেখতেন। তবে সেই পথ ছেড়ে তিনি অপরাধ জগতে জড়িয়ে পড়েন। খুন, চাঁদাবাজি ও অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে আলোচিত ‘ডেভিড ইমন’ নামে পরিচিত এই ব্যক্তিকে অবশেষে যশোর থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, বুধবার (২৯ জুলাই) ভোরে যশোর সদর উপজেলার ঝুমঝুমপুর এলাকায় যৌথ অভিযানে ডেভিড ইমনকে তার তিন সহযোগীসহ গ্রেপ্তার করা হয়। চট্টগ্রাম জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি), কোতোয়ালি মডেল থানা এবং যশোর জেলা পুলিশের সমন্বয়ে পরিচালিত অভিযানে দীর্ঘদিন নজরদারির পর তার অবস্থান শনাক্ত করে তাকে আটক করা হয়।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ছোটবেলা থেকেই ক্রিকেটের প্রতি প্রবল আগ্রহ ছিল মোবারক হোসেন ইমনের। এলাকার মাঠে খেলা শুরু করে পরে তিনি চট্টগ্রাম শহরে এসে ২০১৯ সালের দিকে ব্রাদার্স ক্রিকেট একাডেমিতে যোগ দেন। বাকলিয়া স্টেডিয়াম ও কাজীর দেউড়ি এলাকায় নিয়মিত অনুশীলন করে বাঁহাতি ‘চায়নাম্যান’ স্পিনার হিসেবে পরিচিতি পান। ভারতীয় স্পিনার কুলদীপ যাদবের বোলিং অনুসরণ করতেন তিনি এবং ক্রিকেটেই ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন দেখতেন।

ব্রাদার্স ক্রিকেট একাডেমির কোচ আমিনুল হক জানান, ইমন শান্ত স্বভাবের এবং নিয়মিত অনুশীলনকারী একজন ক্রিকেটার ছিলেন। করোনাভাইরাস মহামারির সময়ের পর থেকে তিনি আর অনুশীলনে আসেননি। পরে গণমাধ্যমে ‘ডেভিড ইমন’ নামে পরিচিত হওয়ার পর জানা যায়, তিনিই সেই ক্রিকেটার।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ক্রিকেট থেকে দূরে সরে যাওয়ার পর তিনি অপরাধচক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খান ওরফে ‘বড় সাজ্জাদ’-এর গ্রুপের সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া যায়। অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি ওই চক্রের অন্যতম সক্রিয় সদস্য হিসেবে পরিচিতি পান।

পুলিশের দাবি, ডেভিড ইমন অস্ত্র ব্যবহারে দক্ষ ছিলেন এবং তার অস্ত্র বহনের একাধিক ছবি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে রয়েছে। চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামী, পাঁচলাইশ, পতেঙ্গা, চান্দগাঁওসহ বিভিন্ন এলাকায় এবং জেলার রাউজান, হাটহাজারী ও ফটিকছড়িতে ওই চক্রের তৎপরতার তথ্য রয়েছে।

পুলিশের নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট চট্টগ্রামে আনিস ও মোহাম্মদ হাসান হত্যা মামলায় প্রথম তার নাম আসে। এরপর ২০২৫ সালের ৩০ মার্চ বাকলিয়া এলাকার আলোচিত জোড়া হত্যা মামলায় এবং একই বছরের ২৩ মে পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত এলাকায় ঢাকাইয়া আকবর হত্যা মামলায় তাকে আসামি করা হয়। সর্বশেষ চট্টগ্রাম নগরের চন্দনপুরা এলাকায় একটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনাতেও তার নাম আলোচনায় আসে।

এ বিভাগের আরও সংবাদ

spot_img

সর্বশেষ সংবাদ