নৌপথে অতিরিক্ত টোল ও চাঁদাবাজি বন্ধের দাবি বাল্কহেড মালিক-শ্রমিকদের

🕙 প্রকাশিত : ২২ জুলাই, ২০২৬ । ১২:৫৩ পিএম

নদীপথে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) নামে অতিরিক্ত টোল আদায় এবং বিভিন্ন স্থানে অবৈধ চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে এসব কার্যক্রম বন্ধের দাবি জানিয়েছেন বাল্কহেড মালিক ও শ্রমিকরা। তাদের অভিযোগ, পদ্মা, যমুনা, মেঘনা, শীতলক্ষ্যাসহ বিভিন্ন নদীপথের একাধিক পয়েন্টে অতিরিক্ত টোল আদায়ের পাশাপাশি প্রতি বাল্কহেড থেকে ২০০ থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত অবৈধভাবে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে।

তাদের দাবি, চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে শ্রমিকদের ভয়ভীতি দেখানো, হুমকি দেওয়া এমনকি মারধরের ঘটনাও ঘটে। এছাড়া, টোলের নামে অর্থ আদায়ের পর অনেক ক্ষেত্রে কোনো রসিদ বা স্লিপ দেওয়া হয় না। এ পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত টোল ও অবৈধ চাঁদাবাজি বন্ধে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

এ দাবিতে গত ১৫ জুলাই মুন্সীগঞ্জ লঞ্চঘাট এলাকায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে বাংলাদেশ বাল্কহেড মালিক সমিতির বিভিন্ন শাখা। এতে মুন্সীগঞ্জ জেলা, ডেমরা, রূপগঞ্জ, ধর্মগঞ্জ-নবীনগর, চরহোগলা-চরকিশোরগঞ্জ, গজারিয়া, মেঘনা এবং হরিরামপুর-লেছড়াগঞ্জ শাখার মালিক ও শ্রমিকরা অংশ নেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, প্রতিদিন অতিরিক্ত টোল ও চাঁদার কারণে তাদের হাজার হাজার টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে। এতে ব্যবসা পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে। দ্রুত এ সমস্যার সমাধান না হলে ঢাকায় বিআইডব্লিউটিএ কার্যালয় ঘেরাও এবং নদীপথ অচল করে দেওয়ার মতো কঠোর কর্মসূচি ঘোষণারও হুঁশিয়ারি দেন তারা।

বাংলাদেশ বাল্কহেড মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক ও মুন্সীগঞ্জ বাল্কহেড মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. জামান খান অভিযোগ করেন, যমুনা থেকে পণ্য নিয়ে ফেরার পথে একটি বাল্কহেডকে একাধিক স্থানে টোল দিতে হয়। আগে যেখানে ২০০ টাকা নেওয়া হতো, এখন সেখানে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে। মুন্সীগঞ্জে পৌঁছাতে একটি বাল্কহেড থেকে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন। শরীয়তপুর, চাঁদপুর মোহনা, পদ্মা সেতু-সংলগ্ন এলাকা, লৌহজং চ্যানেল ও হরিরামপুর-লেছড়াগঞ্জ এলাকায় বিআইডব্লিউটিএর নামে চাঁদাবাজি হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলে তিনি এসব বন্ধে সরকারের হস্তক্ষেপ চান।

বুধবার (২২ জুলাই) পদ্মা নদীতে সরেজমিনে কথা হয় কয়েকজন বাল্কহেড চালক ও শ্রমিকের সঙ্গে। তারা জানান, বিআইডব্লিউটিএর নামে টাকা আদায়ের পাশাপাশি হরিরামপুর উপজেলার সেলিমপুর, কাঞ্চনপুর, পাটুরিয়া ঘাট, দোহার, নারায়ণগঞ্জের সম্ভুপুরা এবং মাওয়া সেতুর আগে-পরে ট্রলারে করে আসা একদল ব্যক্তি জোরপূর্বক ১০০ থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করে। টাকা না দিলে ভয়ভীতি ও মারধরের চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তারা।

বাল্কহেড শ্রমিক ফারুক জানান, দাউদকান্দি থেকে হরিরামপুরে বালু আনতে যাওয়ার পথে মাওয়া সেতুর আশপাশে একাধিক স্থানে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা এবং সেতু পার হওয়ার পর আরও ২০০ থেকে ৩০০ টাকা করে চাঁদা দিতে হয়। তার অভিযোগ, মুখে মাস্ক পরা লোকজন জোর করে এসব টাকা আদায় করে এবং না দিলে হুমকি দেয়।

আরেক শ্রমিক মো. মিরাজ বলেন, যমুনা থেকে বালু আনতে যাওয়ার পথে বিভিন্ন এলাকায় ২০০, ৫০০ কিংবা ১ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা দিতে হয়। অনেক সময় বিআইডব্লিউটিএর নাম ব্যবহার করে টাকা নেওয়া হলেও কোনো স্লিপ দেওয়া হয় না। এতে তাদের পরিবহন ব্যয় অনেক বেড়ে যাচ্ছে।

এদিকে অভিযোগের বিষয়ে কোতোয়ালী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, তিনি সম্প্রতি দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন এবং টোল আদায় বা চাঁদাবাজির বিষয়ে এখনো কোনো তথ্য তার জানা নেই। তবে এ ধরনের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিভাগের আরও সংবাদ

spot_img

সর্বশেষ সংবাদ