নিষিদ্ধ ‘ইউক্যালিপটাস’ গাছ সরাতে বলায় হত্যার হুমকি

🕙 প্রকাশিত : ২১ জুলাই, ২০২৬ । ৯:০৩ এএম

মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার কৃষক মুন্নাফ দেওয়ান। কৃষি কাজ করে পরিবার নিয়ে ভালোই কাটছিলো দিনকাল। পূর্ব শত্রুতার জেরে এক যুগ আগে হঠাৎ তার জমির পাশে সাধন সরকার ইউক্যালিপটাস গাছ রোপন করায় তার জমির উর্বরতা নষ্ট হতে থাকে। গাছগুলো সরিয়ে নিতে বারংবার অনুরোধ করলেও সাধন সরকার ও তার পরিবার কর্নপাত করেননি। উল্টো স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য সাধন সরকার প্রভাব খাটিয়ে মুন্নাফ দেওয়ানকে মামলায় ফাসিয়ে দেন। পরে সাধন সরকার আরো ক্ষিপ্ত হয়ে মুন্নাফ দেওয়ানের জমি ঘেঁষে মাটি কেটে ক্ষতি করেন। ওই সময় মুন্নাফ দেওয়ান শিবালয় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ দায়েরের বেশ কিছুদিন পর সাধন সরকার তার দলবল নিয়ে মুন্নাফ দেওয়ানের উপর হামলা করেন। এ সময় সাধন সরকার তাকে মেরে ফেলার হুমকি দেন। আহত হয়ে মুন্নাফ দেওয়ান হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। হামলার ঘটনায় মুন্নাফ দেওয়ানের স্ত্রী লিলি বেগম সাধন সরকারসহ তিনজনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন।

শিবালয় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাজিয়া তরফদার বলেন, কৃষি জমির পাশে ইউক্যালিপটাস গাছ থাকলে জমির উর্বরতা নষ্ট হয়ে যায়। ফলে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হয়। কোন কৃষক যদি ইউক্যালিপটাস গাছের কারনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকেন তাহলে লিখিত অভিযোগ করতে পারেন। অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা যাবে।

শিবালয় সহকারী বন পরিদর্শক শরীফুল ইসলাম বলেন, গত বছর থেকে ইউক্যালিপটাস গাছ উৎপাদন, সংরক্ষণ, রোপনসহ সকল ধরনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। যারা ১০/১৫ বছর আগে এ গাছ রোপন করেছেন তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট বিধিমালা নেই। তবে এ গাছ কৃষিজমি থেকে শুরু করে পরিবেশের ক্ষতি সাধন করে। তাই এ গাছ কেটে ফেলায় উত্তম।

এ বিষয়ে মুন্নাফ দেওয়ান বলেন, প্রায় ৪০ শতাংশ জমিতে ধান,ভুট্টা,মরিচসহ নানা ফল উৎপাদন করতাম। পাশের জমিতে সাধন সরকারও চাষাবাদ করতো। কিন্তু তিনি কৃষি জমি কেটে পুকুর তৈরি করেন। তারপর আমার জমি ঘেঁষে প্রায় ১২ বছর আগে ইউক্যালিপটাস গাছ রোপন করেন। এসব গাছের পাতার কারনে আমার জমির উর্বরতা নষ্ট হয়ে গেছে। এই এক যুগে আমার ফসল উৎপাদন একেবারেই কমে গেছে। স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠকে অনুরোধ করেও গাছ সরানো যায়নি। উল্টো আমাকে মামলায় ফাসিয়ে জেলে দিয়েছে। আর এখন তো হত্যার হুমকি দিচ্ছে। তারা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত থাকায় কখনও কিছু বলা যায়নি, এখনও এলাকায় দাপট দেখিয়ে চলে।

তার স্ত্রী লিলি বেগম বলেন, কয়েক মাস আগে আমার স্বামীকে মেম্বার সাধন সরকারসহ কয়েকজন বেধড়ক মারধর করে হাসপাতালে পাঠায়। গাছ সরিয়ে নিতে বলার কারনে এভাবে হয়রানির শিকার হতে হবে তা ভাবিনি। আমার স্বামীকে মারধর করায় মামলা করেছি। আসমাীরা জামিনে আছেন। প্রশাসনের কাছে অনুরোধ সঠিক তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের যেন আইনের আওতায় আনা হয়।

সাধন সরকার বলেন, মুন্নাফের জমির ক্ষতি হয় এমন গাছগুলো কেটে ফেলেছি। কিছু গাছ আছে, সরকার বললে সেগুলো কেটে ফেলবো।

শিবালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, মুন্নাফ দেওয়ানের উপর হামলার ঘটনায় মামলা হয়েছে। আসামিরা জামিনে আছেন। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

এ বিভাগের আরও সংবাদ

spot_img

সর্বশেষ সংবাদ