বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা, ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরির উদ্যোগ

🕙 প্রকাশিত : ১৪ জুলাই, ২০২৬ । ১:১৭ পিএম

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের একটি নির্ভুল ডাটাবেজ তৈরি, বিশুদ্ধ পানি ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের বীজ সহায়তা প্রদান এবং ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক দ্রুত সংস্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এসব সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

সভায় তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে মানুষের দুর্ভোগ কমাতে সমন্বিত উদ্যোগের বিকল্প নেই। সংশ্লিষ্ট প্রতিটি মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থাকে নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে দ্রুত সেবা ও সহায়তা পৌঁছে দিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, উদ্ধার কার্যক্রম, ত্রাণ বিতরণ, স্বাস্থ্যসেবা ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনরুদ্ধারেও সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সরকার দুর্যোগ মোকাবিলায় সর্বাত্মকভাবে কাজ করছে। বন্যাকবলিত এলাকায় ত্রাণ বিতরণে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের কাছে ত্রাণ পৌঁছে দিতে হবে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, বন্যাকবলিত এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে কোনো ধরনের শৈথিল্যের সুযোগ নেই। জেলা প্রশাসন, স্থানীয় প্রশাসন ও মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তিনি খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, শুকনো খাবার এবং অন্যান্য জরুরি সহায়তা দ্রুত দুর্গত মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী মজুত ও বিতরণে সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের একটি নির্ভুল ডাটাবেজ তৈরি করা প্রয়োজন, যাতে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম আরও সুশৃঙ্খল ও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা যায়। পাশাপাশি সরবরাহ ব্যবস্থা ও যোগাযোগ অবকাঠামো সচল রাখার বিষয়েও তিনি গুরুত্ব দেন।

সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব বিভাগ নিজ নিজ কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন করে খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি পরিচালনা করা হবে।

এ ছাড়া কৃষি খাতের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সক্রিয়ভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে নতুন বীজ সরবরাহের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বন্যাকবলিত এলাকায় বিশুদ্ধ পানির সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং পানিবাহিতসহ বিভিন্ন রোগের বিস্তার রোধে স্বাস্থ্যসেবা জোরদারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি এলজিইডির আওতাধীন ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক দ্রুত সংস্কার এবং সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের অধীন ক্ষতিগ্রস্ত মহাসড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ সড়ক যোগাযোগ পুনরুদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত উদ্ধার, ত্রাণ, স্বাস্থ্যসেবা ও পুনর্বাসন কার্যক্রম সমন্বিতভাবে অব্যাহত থাকবে।

এ বিভাগের আরও সংবাদ

spot_img

সর্বশেষ সংবাদ