মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার বড়টিয়া ইউনিয়নের ফুলহারা বাজারে সরকারি খাল দখল ও ভরাট করে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগে মানববন্ধন করেছেন চার গ্রামের বাসিন্দারা। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে ফুলহারা বাজারে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে ফুলহারা, মৌহালী, কলিয়া ও গোলাপনগর গ্রামের শত শত মানুষ অংশ নেন। তারা খাল দখলমুক্ত করে পুনঃখননের দাবি জানান।
খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাশিতা-তুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. তানভীর ইসলাম, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তহমিনা খাতুন এবং ঘিওর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সার্ভেয়ারের মাধ্যমে সরকারি খালের সীমানা পরিমাপ করে অবৈধ স্থাপনা চিহ্নিত করা হবে। পরিমাপ শেষে আইন অনুযায়ী উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে খাল পুনরুদ্ধারের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগে গত ২৯ এপ্রিল একই স্থানে খাল পুনরুদ্ধারের দাবিতে মানববন্ধন হয়। সে সময় প্রশাসন খালের উত্তর পাশে নির্মাণাধীন একটি ভবনের কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে নির্দেশ দেয়। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, পরে খালের দক্ষিণ পাশে ভরাট করে দোকান ও স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টা হয়েছে। তাদের অভিযোগ, স্থানীয় এক বিএনপি নেতার সংশ্লিষ্টতায় খালের জায়গা দখল করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তির বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া বাসিন্দারা বলেন, খাল ভরাট হয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিক পানি প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। এতে তিন ফসলি জমিতে সেচ ও চাষাবাদ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার ঝুঁকি বাড়ছে এবং হিজুলিয়া–ইছামতি শাখা নদীর দুই তীরের বসতবাড়ি ও বিভিন্ন স্থাপনা ভাঙনের মুখে পড়ছে। দ্রুত খাল পুনঃখনন করে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করার দাবি জানান তারা।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাশিতা-তুল ইসলাম বলেন, সরকারি জায়গায় নির্মিত কোনো অবৈধ স্থাপনা ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। প্রথমে সার্ভেয়ারের মাধ্যমে সঠিকভাবে পরিমাপ ও মানচিত্র যাচাই করা হবে। সরকারি খালের জমিতে অবৈধ দখলের প্রমাণ মিললে আইন অনুযায়ী উচ্ছেদ করে খাল পুনরুদ্ধারের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নির্দেশ অমান্য করে কেউ স্থাপনা ব্যবহার বা নতুন করে দখলের চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।
প্রশাসনের এ আশ্বাসের পর এলাকাবাসী দ্রুত পরিমাপ সম্পন্ন করে খাল উদ্ধার ও পুনঃখননকাজ শুরুর দাবি জানান।

