মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের খরিপ-২ মৌসুমে রোপা আমন, মরিচ ও গ্রীষ্মকালীন শাকসবজি উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক ১ হাজার ৯০০ জন কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে বীজ, রাসায়নিক সার ও বালাইনাশক বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে।
সোমবার (২২ জুন) বেলা ১২টার দিকে সাটুরিয়া উপজেলা পরিষদ চত্বরে উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ প্রণোদনা সামগ্রী বিতরণ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সূচনা করা হয়।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলার মোট ১ হাজার ৯০০ জন প্রান্তিক কৃষককে এই প্রণোদনার আওতায় আনা হয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৭০০ জন কৃষকের প্রত্যেককে ৫ কেজি করে রোপা আমন ধানের বীজ, ১০ কেজি ডিএপি (DAP) সার ও ১০ কেজি এমওপি (MOP) সার দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মসলা জাতীয় ফসল চাষে উদ্বুদ্ধ করতে ২০০ জন কৃষকের প্রত্যেককে (১০ শতক জমির জন্য) ১০ গ্রাম হাইব্রিড জাতের মরিচ বীজ, ৫ কেজি ডিএপি সার, ৫ কেজি এমওপি সার এবং ০.৯৯ কেজি বালাইনাশক প্রদান করা হচ্ছে।
সাটুরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোছাঃ তানিয়া তাবাসসুম-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এ বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী মোহাম্মদ অনিক ইসলাম।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও কাজী মোহাম্মদ অনিক ইসলাম বলেন, “বর্তমান কৃষিবান্ধব সরকার প্রান্তিক চাষিদের উৎপাদন খরচ কমিয়ে আনতে এবং দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। সঠিক সময়ে এই প্রণোদনা ব্যবহারের মাধ্যমে স্থানীয় কৃষকেরা রোপা আমন, মরিচ ও গ্রীষ্মকালীন শাকসবজি চাষে আরও বেশি লাভবান হবেন এবং দেশের কৃষি সমৃদ্ধিকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন।”
সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোছাঃ তানিয়া তাবাসসুম জানান, খরিপ মৌসুমে উপজেলার কৃষি উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এই সরকারি প্রণোদনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের তালিকাভুক্ত প্রকৃত ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সাথে পর্যায়ক্রমে এই বীজ ও সার বিতরণ সম্পন্ন করা হবে।
অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আসা সুবিধাভোগী প্রান্তিক কৃষকেরা উপস্থিত ছিলেন।

