রবিবার

২৬শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৩ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ছোট অভ্যাসে বড় স্বস্তি: ব্যাক পেইন কমাতে সহজ লাইফস্টাইল পরিবর্তন

🕙 প্রকাশিত : ২৬ এপ্রিল, ২০২৬ । ৭:০১ পূর্বাহ্ণ

আধুনিক জীবনের ব্যস্ততা, দীর্ঘ সময় বসে কাজ করা এবং অনিয়মিত জীবনযাত্রার কারণে পিঠ বা কোমরের ব্যথা এখন অনেকের নিত্যসঙ্গী হয়ে উঠেছে। একসময় যা বয়সজনিত সমস্যা হিসেবে ধরা হতো, এখন তা তরুণদের মধ্যেও ব্যাপকভাবে দেখা যাচ্ছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, দৈনন্দিন কিছু অভ্যাস পরিবর্তন করলেই এই ব্যথা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

পিঠের সুস্থতার অন্যতম ভিত্তি হলো শরীরের কোর মাসল বা কেন্দ্রীয় পেশির শক্তি। এই পেশিগুলো শরীরের ভারসাম্য রক্ষা করে এবং মেরুদণ্ডকে সাপোর্ট দেয়। কিন্তু অনিয়মিত জীবনযাপনে এগুলোর ব্যবহার কমে যাওয়ায় পেশি দুর্বল হয়ে পড়ে, ফলে মেরুদণ্ডে চাপ বেড়ে ব্যথা দেখা দেয়। নিয়মিত হালকা ব্যায়াম এই পেশিগুলোকে সক্রিয় রাখে এবং পিঠকে সুরক্ষিত রাখতে সহায়তা করে।

এর পাশাপাশি পেশির নমনীয়তা বজায় রাখাও জরুরি। দীর্ঘ সময় একভাবে বসে থাকলে পেশি শক্ত হয়ে যায়, যা মেরুদণ্ডে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে। প্রতিদিন কিছু সময় স্ট্রেচিং করলে পেশি নমনীয় থাকে এবং ব্যথা কমে।

বসার ভঙ্গিমাও পিঠের স্বাস্থ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অনেকেই দীর্ঘ সময় কুঁজো হয়ে কাজ করেন, যা মেরুদণ্ডের স্বাভাবিক গঠনে বাধা দেয়। তাই মাঝে মাঝে উঠে দাঁড়ানো, হাঁটা এবং সোজা হয়ে বসার অভ্যাস পিঠের ওপর চাপ কমায়।

হাঁটা একটি সহজ কিন্তু কার্যকর ব্যায়াম, যা শরীর সুস্থ রাখার পাশাপাশি ওজন নিয়ন্ত্রণেও সহায়তা করে। অতিরিক্ত ওজন পিঠের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে, তাই ব্যাক পেইন কমাতে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি।

দৈনন্দিন কাজে সচেতনতা না থাকলেও পিঠে সমস্যা দেখা দিতে পারে। যেমন—ভারি কিছু তোলার সময় ভুল ভঙ্গি ব্যবহার করলে পেশিতে টান পড়ে তীব্র ব্যথা হতে পারে। তাই ভারি জিনিস তোলার সময় পায়ের শক্তি ব্যবহার করা এবং প্রয়োজন হলে সহায়তা নেওয়া উচিত।

ঘুমের সঠিক ভঙ্গিমাও পিঠের স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। হাঁটুর নিচে বা দুই হাঁটুর মাঝে বালিশ ব্যবহার করলে মেরুদণ্ডের ওপর চাপ কমে এবং ঘুম আরামদায়ক হয়।

এছাড়া ধূমপানের মতো অভ্যাস মেরুদণ্ডের ক্ষতি বাড়ায় এবং রক্ত সঞ্চালন কমিয়ে দেয়, ফলে ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। তাই সুস্থ থাকতে এসব অভ্যাস পরিহার করা জরুরি।

সবশেষে, পিঠের ব্যথাকে অবহেলা না করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। জীবনযাত্রার ছোট ছোট পরিবর্তনই পারে বড় সমস্যা এড়াতে। তবে ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী বা তীব্র হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ সুস্থ পিঠই নিশ্চিত করে স্বস্তির জীবন।

এ বিভাগের আরও সংবাদ

spot_img

সর্বশেষ সংবাদ