বুধবার

১৩ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৩০শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজারবাগে পুলিশ সমাবেশের পেছনের কৌশল নিয়ে গবেষণার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

🕙 প্রকাশিত : ১০ মে, ২০২৬ । ৭:১৪ পূর্বাহ্ণ

১৯৭১ সালের মার্চে পশ্চিম পাকিস্তান থেকে বিপুলসংখ্যক সেনা ঢাকায় অবস্থান নেওয়ার সময় দেশের সব পুলিশ সদস্যকে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে একত্রিত করে রাখার পেছনে তৎকালীন রাজনৈতিক নেতৃত্বের কী পরিকল্পনা বা কৌশল ছিল— এ বিষয়টি এখনো মুক্তিযুদ্ধ গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
রোববার (১০ মে) রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স মাঠে পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে নতুন প্রজন্মসহ বিভিন্ন সময়ের মানুষের মনে এখনো কিছু প্রশ্ন রয়ে গেছে। ইতিহাস পাঠ এবং মুক্তিযোদ্ধাদের অভিজ্ঞতা থেকে স্বাধীনতা যুদ্ধ সম্পর্কে জানা গেলেও কিছু ঘটনার ব্যাখ্যা আজও অনুসন্ধানের দাবি রাখে।
তিনি বলেন, “১৯৭১ সালের উত্তাল মার্চে স্বাধীনতাকামী মানুষের মধ্যে যখন চরম উত্তেজনা বিরাজ করছিল এবং পশ্চিম পাকিস্তান থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার সৈন্য ঢাকায় এনে জড়ো করা হচ্ছিল, তখন দেশের সব পুলিশ সদস্যকে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে একত্রিত করে রাখার পেছনে কী যুক্তি বা কৌশল কাজ করেছিল— এটি মুক্তিযুদ্ধ গবেষকদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণার বিষয় হতে পারে।”
তারেক রহমান আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধে রাজারবাগ পুলিশের প্রতিরোধ এবং চট্টগ্রামে মেজর জিয়ার ‘উই রিভোল্ট’ ঘোষণা— এই দুটি ঘটনা স্বাধীনতার সংগ্রামকে আরও বেগবান ও অপ্রতিরোধ্য করে তোলে।
পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পুলিশ সপ্তাহের বর্ণিল প্যারেড কেবল আনুষ্ঠানিক আয়োজন নয়, বরং এটি শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ, আত্মমর্যাদা এবং ভবিষ্যতের প্রতি দৃঢ় অঙ্গীকারের প্রতিফলন।
তিনি বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় ধরে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন ও ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের ধারাবাহিকতায় জনগণের ভোটে বর্তমান সরকার গঠিত হয়েছে। দেশের মানুষ এখন শান্তি ও নিরাপত্তা প্রত্যাশা করছে এবং সেই দায়িত্ব পালনে পুলিশের ভূমিকাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আপনাদের সর্বোচ্চ সক্ষমতা দিয়ে কাজ করতে হবে। এটিই সরকারের প্রত্যাশা।”
তিনি আরও বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রমাণ করেছে বাংলাদেশ পুলিশ দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম। পাশাপাশি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনেও বাংলাদেশ পুলিশ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও মানবাধিকার সুরক্ষায় বাংলাদেশ পুলিশের অবদান তুলে ধরে তিনি বলেন, নারী পুলিশ সদস্যদের ভূমিকাও আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হয়েছে।
দেশের জনগণের সঙ্গে পুলিশের মানবিক আচরণ প্রত্যাশা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু বিদেশে নয়, দেশের ভেতরেও জনগণের আস্থা অর্জনে পুলিশকে আরও মানবিক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

এ বিভাগের আরও সংবাদ

spot_img

সর্বশেষ সংবাদ