মঙ্গলবার

৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২২শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দ্বিপাক্ষিক সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রামগড় স্থলবন্দর, প্রস্তুতি সম্পন্ন

🕙 প্রকাশিত : ৫ মে, ২০২৬ । ৮:১২ পূর্বাহ্ণ

খাগড়াছড়ির রামগড় স্থলবন্দর আমদানি-রপ্তানি ও যাত্রী পারাপারের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত হয়ে আছে। এখন শুধু বাংলাদেশ ও ভারতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দুই দেশের সম্মতি মিললেই পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রথম এই স্থলবন্দরটি চালু করা সম্ভব।
চট্টগ্রাম বন্দর থেকে প্রায় ১১২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এ স্থলবন্দরটি চালু হলে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ত্রিপুরা, মেঘালয়, আসাম, মণিপুর, মিজোরাম, নাগাল্যান্ড ও অরুণাচল প্রদেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক যোগাযোগ আরও জোরদার হবে।
বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, রামগড় স্থলবন্দর চালুর প্রক্রিয়া আবার সক্রিয় হয়েছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের অবনতির কারণে বিষয়টি স্থগিত থাকলেও বর্তমানে তা এগোচ্ছে। শিগগিরই নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান বন্দর পরিদর্শনে রামগড় সফর করতে পারেন এবং স্থানীয়দের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন বলে জানা গেছে।
বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. মানজারুল মান্নান বলেন, “রামগড় স্থলবন্দরের শতভাগ কাজ শেষ হয়েছে। এখন শুধু চালুর অপেক্ষা। এটি দ্বিপাক্ষিক সিদ্ধান্তের বিষয়—দুই দেশের সম্মতি মিললেই বন্দর চালু করা যাবে।”
২০০৩ সালে রামগড় শুল্ক স্টেশনকে স্থলবন্দরে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে ভূমি অধিগ্রহণ ও অবকাঠামো নির্মাণের কাজ শুরু হয়। প্রায় ১০ একর জমির ওপর ১৬৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই বন্দরে তিনতলা প্রশাসনিক ভবন, প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল, ওয়্যারহাউজ, পার্কিং ইয়ার্ড, ওপেন স্ট্যাক ইয়ার্ড ও ওয়েব্রিজসহ প্রয়োজনীয় সব স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, ইমিগ্রেশন ভবনে একই ছাদের নিচে কাস্টমস, ইমিগ্রেশন, বিজিবিসহ সব সেবা পাওয়া যাবে, যা যাত্রীদের ভোগান্তি কমাবে।
বন্দরকে ঘিরে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থারও উন্নয়ন করা হয়েছে। বারৈয়ারহাট-হেঁয়াকো-রামগড় সড়কে সেতু ও কালভার্ট নির্মাণ এবং সড়ক প্রশস্তকরণের কাজ প্রায় শেষ। ভারতের অর্থায়নে নির্মিত ‘মৈত্রী সেতু-১’ ইতোমধ্যে চালু হয়ে রামগড়কে ত্রিপুরার সাব্রুমের সঙ্গে যুক্ত করেছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মতে, বন্দরটি চালু হলে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। বিশেষ করে নির্মাণসামগ্রী, প্লাস্টিক পণ্য, খাদ্যপণ্য ও তৈরি পোশাক রপ্তানিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে। পাশাপাশি পর্যটন খাতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

এ বিভাগের আরও সংবাদ

spot_img

সর্বশেষ সংবাদ